উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির জয়জয়কারের মধ্যেই প্রযুক্তি প্রেমীদের জন্য দুঃসংবাদ শোনাল অ্যাপল। সাম্প্রতিক আইপ্যাড এবং ম্যাকবুকের দাম বৃদ্ধির পর, কোম্পানিটি এবার আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডসের দাম বাড়ানোর (Apple Value Hike) ইঙ্গিত দিয়েছে। মেমোরি ও স্টোরেজ কম্পোনেন্টের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন এই প্রযুক্তি জায়ান্ট।
অ্যাপলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স শিল্প বর্তমানে অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখে।” কোম্পানিটির মতে, বিশ্বজুড়ে এআই ডেটা সেন্টার স্থাপনের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের চাহিদায় এক অভাবনীয় বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর ফলে গত কয়েক মাসে এই যন্ত্রাংশগুলোর দাম প্রায় চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। অ্যাপল সিইও টিম কুক এই পরিস্থিতিকে ‘একশ বছরের বন্যা’ বা নজিরবিহীন সংকট বলে অভিহিত করেছেন। কুক জানিয়েছেন, তাঁর ৪০ বছরের কর্মজীবনে এমন সরবরাহ সংকট তিনি কখনো দেখেননি।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান কম্পোনেন্ট খরচ অ্যাপলের ওপর আইফোন প্রতি প্রায় ২০০ ডলারের অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন আইফোন সিরিজের দাম ১৫০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে বেশি স্টোরেজ ভেরিয়েন্টের ওপর এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আইডিসি (IDC)-এর মতে, অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স বা নতুন এআই ফিচারের পূর্ণ সুবিধা দিতে আসন্ন আইফোনগুলোতে ১২ জিবি র্যাম ব্যবহার করা হতে পারে, যা পরোক্ষভাবে পণ্যের দামকে প্রভাবিত করবে।
অ্যাপল জানিয়েছে, তারা এই মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং এর সমাধানের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, হার্ডওয়্যারের আধুনিকায়ন ও উন্নত এআই ফিচারের যুক্তি দেখিয়ে অ্যাপল উচ্চমূল্যকে গ্রাহকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার কৌশল নিতে পারে। তবে এই দাম বৃদ্ধি কি কেবল নতুন মডেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, নাকি বাজারে থাকা পুরনো মডেলগুলোর দামও বাড়ানো হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
বর্তমানে ম্যাক এবং আইপ্যাডের দাম বৃদ্ধির পর, আইফোনসহ অন্যান্য পণ্যে এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হলে তা সাধারণ গ্রাহকদের বাজেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এআই ডেটা সেন্টারের জন্য মেমোরি চিপের চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তাতে প্রযুক্তি পণ্যের দাম সহসা কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছে না বাজার বিশেষজ্ঞরা।

