১৯ সেপ্টেম্বর, সিঙ্গাপুরে নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে গিয়ে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় জুবিন গর্গের। বিদেশের মাটিতে অসমের ভূমিপুত্রের আকস্মিক প্রয়াণের খবরে স্তব্ধ হয়েছিল সঙ্গীমহল। শোক আছড়ে পড়েছিল আসমুদ্রহ হিমাচল। দেখতে দেখতে প্রায় বছর ঘুরতে চলল। আজও জুবিনের মৃত্যুশোক তাঁর অনুগামীদের চোখে জল আনে। তা বললে অত্যুক্তি হবে না। কিংবদন্তি শিল্পী জুবিন গর্গের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং তাঁর সঙ্গীতের নেপথ্যে গল্প বুনেছেন পরিচালক শ্রী প্রীতম। স্বনামধন্য গায়ককে নিয়ে ছবি বানাচ্ছেন, তাঁর ভাবনায় তৈরি হচ্ছে মিউজিক্যাল ড্রামা ‘লাভ ইউ জুবিন দা’।
২৭ জুন শনিবার সন্ধ্যায় অসমে জুবিনের স্ত্রী গরিমার হাতে হবে হবে সিনেমার পোস্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এক সংগ্রামী গায়কের জীবনের গল্পই ফুটে উঠবে ‘লাভ ইউ জুবিন দা’-তে। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে যখন তিনি সাফল্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান, তখনই জীবনে নেমে আসে এক অপ্রত্যাশিত সংকট। একদিকে শৈশবের স্বপ্ন পূরণের আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে জীবনের কঠিন বাস্তবতা—এই দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলে ছবির কাহিনি। শেষ পর্যন্ত এক চমকপ্রদ রহস্যময় মোড় দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে এক গভীর আবেগের গল্প।
আরও পড়ুন:

এই ছবির অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ জুবিন গর্গের দুটি অপ্রকাশিত গান। যা প্রথমবার এই ছবির মাধ্যমে মুক্তি পাবে। নির্মাতাদের বিশ্বাস, এই গান দুটি ছবির আবেগকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সঙ্গীত পরিচালক শ্রী প্রীতম বলেন, “২০১১ সাল থেকে মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে টলিউডে জুবিন দার সঙ্গে বহু গান করার সৌভাগ্য হয়েছে। ওঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে খুব কাছ থেকে জানার সুযোগ পেয়েছি। সেই ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা থেকেই এই ছবির ভাবনা। গল্পটি প্রযোজক এমডি ফারুক উদ্দিনকে শোনানোর পর সঙ্গে সঙ্গেই ছবি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিই। এরপর গরিমাদির কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার কাজ শুরু হয়। জুবিনদার দুটি অপ্রকাশিত গান এই ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। পুরো ছবির মাধ্যমে আমি তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর আন্তরিক চেষ্টা করেছি। এই ছবি আমার জীবনের এক সোনালি অধ্যায়।”

‘লাভ ইউ জুবিন দা’র মাধ্যমে অভিনয়ে হাতখড়ি বর্ষা সেনগুপ্তর। জুবিন গর্গের পরিচিতও। বর্ষার কথায়, “শ্রী প্রীতমের মাধ্যমে জুবিনদার সঙ্গে আমার পরিচয়। ওঁর স্নেহ, ভালোবাসা এবং একসঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্ত আজও আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। এই ছবির পরিকল্পনা থেকে শুরু করে চিত্রনাট্য লেখা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের আমি সাক্ষী। এই ছবিতে নায়িকা হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। একই সঙ্গে দায়িত্বও অনেক বেড়েছে। গরিমাদির কাছ থেকেও অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা পেয়েছি। আমার সেরাটুকু দর্শকের সামনে তুলে ধরার অপেক্ষায় আছি।”

ছবির নায়ক ইকবাল রহিমি বলেন, “জুবিন গর্গ শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের অনুপ্রেরণা। তাঁর নামের সঙ্গে অসংখ্য মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। এমন একটি ছবির অংশ হতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। আমি এই চরিত্রের জন্য আমার সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। আশা করি, আমাদের এই প্রচেষ্টা দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে এবং ছবিটি প্রত্যেকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।” সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, গীতাবলী রাজকুমারী, অভিজিৎ গুহ, পার্থপ্রতিম গোস্বামী, ভায়োলিনা বরদলৈ, সৌরভ চট্টোপাধ্যায় এবং মধুমিতা গুপ্ত।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
