Minimize cash | উপভোক্তাকে হুমকি! কাটমানি দিলেই মিলবে আবাসের কিস্তির টাকা, কাঠগড়ায় বিজেপি নেতা

Minimize cash | উপভোক্তাকে হুমকি! কাটমানি দিলেই মিলবে আবাসের কিস্তির টাকা, কাঠগড়ায় বিজেপি নেতা

শিক্ষা
Spread the love


কুমারগঞ্জ: সরকারি প্রকল্পের ঘর পেতে হলে দিতে হবে কাটমানি। এমনই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ ব্লকের ভোঁওর অঞ্চলের পূর্ব ভোঁওর পলিপাড়ায়। অভিযোগ বাংলা আবাস যোজনায় ঘরের জন্য এক উপভোক্তার কাছ থেকে কাটমানি চাওয়া হয়েছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে ব্লক প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত গরীব দিনমজুর লক্ষণ হেমব্রম বাংলা আবাস যোজনার অধীনে একটি ঘর পাওয়ার অনুমোদন পান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০,০০০ টাকা জমা পড়ে। সেই টাকা পেয়ে আনন্দে ঘর তৈরির কাজ শুরু করেন লক্ষণ। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে এসে তাঁর বাড়ি তৈরির কাজ পর্যবেক্ষণও করা হয়। কিন্তু এর পর থেকেই অভিযোগ, এলাকার বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যা নিবেদিতা সরকারের স্বামী পাপাই সরকার তাঁর কাছে দশ হাজার টাকা দাবি করতে থাকেন। লক্ষণ হেমব্রমের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়িতে এসে এবং ফোন মারফত বারংবার তার কাছ থেকে টাকা চান। এমনকি, অন্যান্য ঘর প্রাপকরাও তাকে টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী। তাঁর আরও অভিযোগ, টাকা না দিলে তিনি পরবর্তী কিস্তির টাকা আটকে দেবেন বলে হুমকিও দেন। এই পরিস্থিতিতে ভয় পেয়ে যান দরিদ্র এই উপভোক্তা।

উপায় না দেখে লক্ষণ কুমারগঞ্জের বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাসের দ্বারস্থ হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লক্ষণ জানিয়েছেন, ‘টাকা ঢোকার পর থেকেই মেম্বারের স্বামী পাপাই সরকার দশ হাজার টাকা দিতে বলছেন। অন্যান্য প্রাপকরাও টাকা দিয়েছেন বলে বারবার বলছেন। এমনকি, টাকা না দিলে পরবর্তী কিস্তির টাকা আটকে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। আমি বিডিওকে অভিযোগ জানালাম।’

এ বিষয়ে কুমারগঞ্জের বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস জানান, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও এক টাকাও কেউ যেন না দেয়। আর এই বিষয়ে নিয়ে তদন্ত হবে।’ প্রধান সাহিনুর খাতুন বিবি জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি শুনলাম, আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমারগঞ্জে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সরকারি প্রকল্পের টাকা নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তৃণমূল নেতা উজ্জ্বল বসাক জানান, ‘এটা চরম গর্হিত কাজ। শুধু বিজেপি কেন কোনও দলেরই লোক সরকারি কাজে টাকা চাইতে পারে না। এর শাস্তি দাবি করছি।’

এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত পাপাই সরকার। তিনি বলেন, ‘এইসব রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। কোনও প্রমাণ ছাড়াই এই অভিযোগ করছে। আসলে রাজনৈতিক ভাবে ষড়যন্ত্র করতেই তৃণমূল এইসব করছে।’ বিজেপি নেতা জীবন রায় জানান, ‘বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।’

সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে গরীব মানুষের অধিকার কেউ হরণ করতে না পারে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *