নারায়ণ রায়, বানারহাট: ভোটের ফলাফল প্রকাশের দশদিন পার হয়েছে। অথচ ভোটের জন্য বাড়িতে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকরা এখনও গ্রামেই রয়েছেন। তাঁদের আশা, নতুন সরকার যদি তাঁদের এলাকায় অথবা নিদেনপক্ষে জেলায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাহলে আর পরিবারকে ছেড়ে অন্য রাজ্যে যেতে হয় না। সেই অপেক্ষায় বানারহাট ব্লকের দুরামারি এলাকার বহু পরিযায়ী শ্রমিক ভিনরাজ্যে ফিরে যাননি (Migrant Staff)। এদিকে গ্রামে কাজ না থাকায় আলস্যে দিন কাটছে তাঁদের। ফলে সময় কাটানোর জন্য তাঁরা বেছে নিয়েছেন বিভিন্ন অনলাইন গেম।
দুরামারির বিভিন্ন এলাকায় এখন দেখা যাচ্ছে এক অদ্ভুত দৃশ্য। কেউ গ্রামের চায়ের দোকানে, কেউ বাড়ির ছাদ বা বারান্দা তো আবার কেউ মাঠে বসে মোবাইলে গেম খেলছেন। অনলাইনে গেম খেলতে ভালো নেটওয়ার্ক প্রয়োজন হয়। অনেকে নেটওয়ার্ক না পেয়ে গ্রামের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। একদিকে কর্মসংস্থানের অভাব, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা— এই দুইয়ের মাঝে আটকে দুরামারির যুবসমাজ। অনলাইন গেম আপাতত তাঁদের সময় কাটানোর মাধ্যম হলেও, এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে বেকারত্বের গভীর সংকট।
দুরামারির পরিযায়ী শ্রমিক সুরেশ রায় বলেন, ‘আমরা ভিনরাজ্যে যে ধরনের কাজ করি, এখানে সেই ধরনের কাজ নেই। তাই বসে বসে দিন কাটছে। সারাদিন তো আর চুপ করে বসে থাকা যায় না, তাই বন্ধুদের সঙ্গে মোবাইলে গেম খেলে সময় কাটাচ্ছি। ভোটের জন্য বাড়ি এসেছিলাম। কিন্তু এখানে তেমন কাজ নেই। যদি এই সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে আবার বাইরে চলে যেতে হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কর্মসংস্থানের অভাব। চা বাগান নির্ভর অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ায় যুবসমাজের বড় অংশকে জীবিকার জন্য ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু ভোটের সময় বাড়ি ফিরে আসার পর এখন তারা কার্যত বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তাই মোবাইল গেম ছাড়া আর সময় কাটাবেনই বা কী করে!
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিযায়ী শ্রমিক বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন নতুন নির্দেশিকা দিচ্ছে। তাই আমরা একটু দেখছি পরিস্থিতি কোনদিকে যায়। যদি এখানে কাজের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে আর বাইরে যেতে হবে না।’
আরেক শ্রমিকের বক্তব্য, ‘নতুন সরকার চাকরিতে বসার বয়স আরও পাঁচ বছর বাড়িয়েছে। তাই আমরা আশা করছি হয়তো ভবিষ্যতে কিছু সুযোগ আসতে পারে। সেই কারণেই এখনও বাইরে যাইনি। নতুন কোনও কর্মসংস্থান বা সরকারি প্রকল্প চালু হয় কি না, সেই আশায় গ্রামে অপেক্ষা করছি।’
