বহরমপুর: ওডিশায় (Odisha) অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত (Migrant Employee Loss of life) মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) তরুণ জুয়েল রানার (Jewel Rana) নিথর দেহ শুক্রবার গ্রামে ফিরল। কফিনবন্দি দেহ সুতিতে (Suti) পৌঁছাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। একদিকে ওডিশার উন্মত্ত জনতার প্রতি ঘৃণা, আর অন্যদিকে নিজ রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব— এই দুই অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে গ্রাম। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয় স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের।
ভয়াল সেই গণপিটুনির স্মৃতি: পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে জুয়েল ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু রাজমিস্ত্রির কাজে ওডিশায় গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানে একদল উন্মত্ত যুবক তাঁদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে পাকড়াও করে। পরিচয়পত্র দেখানোর সুযোগ না দিয়েই শুরু হয় অমানুষিক মারধর। জুয়েলকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। শুক্রবার তাঁর দেহ গ্রামে পৌঁছাতেই কান্নার রোল ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র বাঙালি হওয়ার কারণেই তাঁকে এমন নৃশংস পরিণতির শিকার হতে হলো।
রাজ্য সরকারকে বিঁধলেন গ্রামবাসীরা: এদিন জুয়েলের দেহ গ্রামে ফিরতেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে প্রশাসন। গ্রামের মানুষের অভিযোগ, এ রাজ্যে কর্মসংস্থানের ছিটেফোঁটাও নেই। ফলে পেটের টানেই জুয়েলের মতো তরুণদের ভিন রাজ্যে গিয়ে বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে। মৃতের এক আত্মীয় মিঠুন শেখ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সরকার মুখে কর্মসংস্থানের কথা বললেও প্রান্তিক স্তরে কোনও কাজ নেই। কাজ থাকলে আমাদের ছেলেদের পরিবার-পরিজন ছেড়ে এত দূরে পড়ে থাকতে হত না। সরকার নীরব দর্শক হয়ে শুধু মিছিল-মিটিং করছে, আর আমাদের ছেলেরা কফিনবন্দি হয়ে ফিরছে।”
রাজনৈতিক তরজা ও প্রশাসনের ভূমিকা: পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। উপস্থিত হন জঙ্গিপুর মহকুমা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তৃণমূলের দাবি, ওডিশায় এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালি শ্রমিকদের কোনও নিরাপত্তা নেই বলে তাঁরা সরব হন। একইসঙ্গে তাঁরা আশ্বাস দেন যে, রাজ্য সরকার জুয়েলের পরিবারের পাশে থাকবে। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে রাজ্যের কর্মসংস্থান নীতির ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছে।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও গ্রামের ক্ষোভ স্তিমিত হয়নি। বিধায়ক ও পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া কয়েক হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের চোখেমুখে এখন শুধুই আতঙ্কের ছাপ।
