রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: হস্টেল থেকে বহিষ্কার, সাসপেন্ড করার মতো পদক্ষেপেও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (NBMCH) র্যাগিং কালচার এতটুকু কমেনি। শুক্রবার মেডিকেলের অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির কাছে আরও কয়েকটি অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। এনিয়ে মেডিকেল কলেজে তুমুল হইচই পড়ে যায়। পড়ুয়াদের অভিযোগ, র্যাগিং এবং হুমকি সংস্কৃতির অভিযোগ জমার পরেও কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করেনি। অভিযুক্তরা বহালতবিয়তে ঘুরছে। একাধিক অভিযুক্ত নবীনবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটিতে থেকে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। ভবিষ্যতে র্যাগিং, হুমকি আরও বাড়বে এবং বড় অঘটন ঘটবে বলে আশঙ্কা। সেক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে বলে পড়ুয়ারা মনে করছেন।
পুরো বিষয়টি অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি দেখছে বলে এড়িয়ে গিয়েছেন অধ্যক্ষ ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক। অন্যদিকে, অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, র্যাগিং এবং হুমকি সংস্কৃতি নিয়ে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখে কলেজ অধ্যক্ষকে প্রাথমিক রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। শনিবার ফের কমিটির বৈঠক বসার কথা।
আরজি কর কাণ্ডের পরে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে র্যাগিং এবং হুমকি সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র আন্দোলন হয়। পড়ুয়াদের আন্দোলনের চাপে কলেজ কাউন্সিল বৈঠক করে তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন পড়ুয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তাঁদের হস্টেল ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। যদিও পরে বরখাস্ত পড়ুয়ারা উচ্চ আদালতে গিয়ে পরীক্ষায় বসার অনুমতি পান।
অভিযোগ, রাজ্যের শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের ছত্রছায়ায় থাকা পড়ুয়াদের সেই গোষ্ঠীই ফের জাঁকিয়ে বসেছে। হস্টেলে বেআইনিভাবে ঘর দখল করে নিয়মিত জুনিয়ারদের হুমকি দেওয়া, এমনকি র্যাগিং শুরু করেছে। এই অভিযোগে সোমবার বিভিন্ন বর্ষের পড়ুয়ারা অধ্যক্ষের অফিস ঘেরাও করেন। চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া এবং র্যাগিংয়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগ পেয়ে পরদিনই কলেজে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি জরুরি বৈঠকে বসে। অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তদের মোট ২০ জনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযুক্তদের সতর্কও করেন কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হবে। ইতিমধ্যে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট কলেজ অধ্যক্ষের কাছে জমা পড়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার আবার বৈঠকে বসে কমিটি। সেখানে র্যাগিং সংক্রান্ত চার-পাঁচটি নতুন অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে, এদিন কলেজে পরীক্ষা থাকায় অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারীদের কমিটির সামনে হাজির করা যায়নি। তাই শনিবার ফের বৈঠক ডাকা হয়েছে।
