Medla Watch Tower | পর্যটনে নতুন দিশা, সারাবছর খোলা মেদলা! বর্ষাতেও জমজমাট ডুয়ার্স

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


ইন্ট্রো-বর্ষায় জঙ্গলের মূল দরজা বন্ধ থাকলেও পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট ডুয়ার্স। জিপ সাফারির অভাব পূরণ করছে গরুমারার মেদলা নজরমিনার এবং সংলগ্ন ইকো রিসর্টগুলি। বৃষ্টিস্নাত সবুজ বনানী আর বন্যপ্রাণের টানে ডুয়ার্সের এই বিকল্প পর্যটনেই এখন মজেছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

শুভদীপ শর্মা, ময়নাগুড়ি: ঝমঝমে বৃষ্টি আর চারপাশের ঘন সবুজ প্রান্তর। নিয়ম মেনে জঙ্গলের মূল দরজা এখন বন্ধ। শোনা যাচ্ছে না জিপ সাফারির ইঞ্জিনের শব্দ, দেখা নেই হাতির পিঠে চেপে জঙ্গল ভ্রমণের সেই চেনা কোলাহলও। কিন্তু তাতে কী? বর্ষায় ডুয়ার্সের (Dooars) পর্যটনে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। বরং জঙ্গল বন্ধের এই মরশুমেও ডুয়ার্সের পর্যটনকে নতুন পথ দেখাচ্ছে গরুমারার মেদলা নজরমিনার (Medla Watch Tower)। মেদলার পাশাপাশি কালিপুর ইকো ভিলেজ, ধূপঝোরা এলিফ্যান্ট ক্যাম্প, ধূপঝোরা গাছবাড়ি ইকো রিসর্ট এবং পানঝোরা জঙ্গল ক্যাম্পে পর্যটকদের আনাগোনা অব্যাহত। এর হাত ধরেই জঙ্গল বন্ধ থাকলেও বেশ জমজমাট ডুয়ার্সের পর্যটন।

ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, ‘বর্ষায় পর্যটকদের জন্য জঙ্গলের কিছু নির্দিষ্ট এলাকা খোলা রাখার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানানো হয়েছিল। মেদলা সহ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র খোলা থাকায় চলতি বছর বর্ষার মরশুমে পর্যটকদের আনাগোনা তুলনামূলকভাবে অনেকটা ভালো।’

বন্যপ্রাণীদের প্রজনন মরশুম, সাপ-পোকামাকড়ের উপদ্রব এবং বৃষ্টিতে জঙ্গলের রাস্তা ও সেতুর ক্ষতির আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে প্রতি বছর ১৬ জুন থেকে তিন মাসের জন্য গরুমারা, জলদাপাড়া সহ বিভিন্ন জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্যে পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ফের খুলবে জঙ্গলের দরজা। তবে জঙ্গল বন্ধ থাকলেও বর্ষায় ডুয়ার্সের এক নিজস্ব এবং আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। মেঘে ঢাকা সবুজ বনানী, পাহাড়ি নদী-ঝোরা আর বন্যপ্রাণীর টানে বহু পর্যটক এই সময়েও ডুয়ার্সে ছুটে আসেন। তাঁদের কথা ভেবেই এবার সারাবছর মেদলা নজরমিনার খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন দপ্তর। ফলে জিপ সাফারি বন্ধ থাকলেও মেদলায় দাঁড়িয়ে জঙ্গলের অপরূপ সৌন্দর্য ও বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা।

সোমবার বারাসত থেকে পরিবার নিয়ে লাটাগুড়িতে ঘুরতে এসেছেন পর্যটক দীপঙ্কর দে। তাঁর কথায়, ‘বর্ষায় ডুয়ার্সের একটা আলাদা আকর্ষণ আছে। এবছর মেদলা নজরমিনার খোলা রয়েছে জানতে পেরেই পরিবার নিয়ে ডুয়ার্সে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ জঙ্গল বন্ধ থাকলেও মেদলার মতো জায়গা খোলা থাকায় বর্ষাতেও ডুয়ার্সের আসল রূপ দারুণভাবে উপভোগ করা যাচ্ছে বলে তাঁর মত।

ডুয়ার্সের ট্যুর অপারেটর বিপ্লব দে-র মতে, প্রতি বছর বর্ষায় পর্যটকের সংখ্যা অনেকটা কমে যায়। কিন্তু চলতি বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। মেদলা, কালিপুর, ধূপঝোরা ও পানঝোরা খোলা থাকায় পর্যটকরা ডুয়ার্স ঘোরার দারুণ বিকল্প পাচ্ছেন। এর ফলে পর্যটন ব্যবসায়ীরাও বেশ লাভবান হচ্ছেন।

জঙ্গলের দরজায় তালা ঝুললেও ডুয়ার্সের পর্যটনে তালা পড়েনি। বর্ষাস্নাত সবুজ প্রকৃতি আর বন্যপ্রাণীর টানে ডুয়ার্সের বিকল্প পর্যটনে এখন দিশারি সেই মেদলাই।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *