উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে তৎপর হলো রাজ্য প্রশাসন। চলতি বছরের শেষ অর্থাৎ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যাবতীয় শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মতুয়া সম্প্রদায়ের আবেদনকারীদের হাতে শংসাপত্র (Matua citizenship CAA) তুলে দেওয়া হবে বলে জোরালো প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রবিবার গোঁসাই পরিষদ আয়োজিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলন – ২০২৬-এর মঞ্চে যোগ দিয়ে এই প্রসঙ্গের অবতারণা করেন তিনি। নাগরিকত্বের আইনি মান্যতা না পাওয়ার কারণে অতীতে বহু মতুয়া মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি এবং ভোটার তালিকা থেকেও তাঁদের নাম বাদ গিয়েছিল। তবে সার্টিফিকেট হাতে আসার পর সেই সমস্ত বাধা দূর হবে এবং প্রত্যেকেই নিয়মমাফিক ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। শুধু তাই নয়, এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে সরকারিভাবে সমস্ত ধরনের প্রয়োজনীয় নথি সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ির ওই সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ইতিবাচক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই নবান্ন সভাগৃহে সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের বা ডিএম-দের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের ওয়ার্কশপ করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সেই বৈঠকে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনার পর নির্দিষ্ট গাইডলাইনও সরবরাহ করা হয়েছে। রাজ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ পিটিশনার বা আবেদনকারী রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সকলকে সিএএ-র আওতায় সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে, ফলে এ নিয়ে অহেতুক চিন্তার কোন কারণ নেই।
আসন্ন জানুয়ারি মাসেই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জানুয়ারি মাসে ভোটার তালিকা রিভিশনের সময় নাম তোলার জন্য সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাঁদের হাতে সিএএ সার্টিফিকেট চলে আসবে, তাঁরা প্রত্যেকেই যাতে অবিলম্বে আবেদন করতে পারেন এবং কোনোভাবেই যাতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র জোগাড় করে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বিগত দিনে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের তীব্র বিরোধিতাকারী পূর্বতন সরকার ও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করতেও ছাড়েননি তিনি। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, ‘একজন মুখ্যমন্ত্রী CAA-র বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ। তিনি অন্যায় করেছিলেন বলে ঠাকুর গণতান্ত্রিক ভাবে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’ মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রায় ৭০টি মতুয়া অধ্যুষিত বিধানসভা আসনেই জয়লাভ করেছেন বিজেপি প্রার্থীরা। পাশাপাশি, মতুয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী দিনে একাধিক জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কাজ রূপায়ণ করবে এই সরকার।

