- ইউটোপিয়া
- রঞ্জন চক্রবর্তী
দু’টি মনের দূরত্ব সেভাবে মাপার চেষ্টা করিনি কখনও
হয়তো কাছে এসেছি, আবার রাস্তা নিয়ে গেছে দূরে
আসলে জীবন অনেকটা সিঁড়ি ভাঙা অঙ্কের মতো
ধাপে ধাপে এগোলেও শেষে উত্তর মেলানো কঠিন,
যেহেতু নিজেকে আর নতুন করে খোঁজার দায় নেই
তাই সম্পর্কের গভীরতার প্রশ্নে আজকাল আমি নিরুত্তর।
এতদিন জনারণ্যে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো বেঁচেছি
আষাঢ়ের বৃষ্টিভেজা সকালে তোমার কাছে আসতে চেয়েছি
আবার হেমন্তের পাতাঝরার বিকেলে দূরে সরে যেতে চেয়েছি,
এভাবেই কেটেছে দিন, কেটেছে রাত, ধুলো জমেছে স্মৃতির পাতায়
আজ দেখছি আমার সব স্বপ্নেরই রং বিবর্ণ হলুদ
যত পূর্ণিমা দেখেছি সবই আসলে নষ্ট চাঁদের আখ্যান।
- মুছে ফেলা যায় না
- হাবিব মণ্ডল
নিজেকে এখন ভেঙে ফেলতে ইচ্ছে হয় পুরনো দেওয়ালের মতো,
যার গায়ে জমে আছে অসংখ্য দিনের ক্লান্তি,
তবু ভাঙতে পারি না।
এগোতে চাইলে অদৃশ্য দেওয়াল উঠে দাঁড়ায়।
কোথাও জায়গা নেই, সমস্ত জায়গায় দখলের ব্যস্ততা,
ক্ষমতার উল্লাস, মানুষের ভেতর মানুষটাকে হারিয়ে ফেলার
অদ্ভুত আয়োজন। কথাদের শরীরে এখন অকারণ বিষ,
হাওয়ার সঙ্গে মিশে সে বিষ পৌঁছে যায় মনের ভিতর।
সব দরজা বন্ধ করলেও একটি ক্ষীণ আলো জেগে থাকে,
সেই আলোই সত্য, অথচ চিরনতুন—
যাকে অস্বীকার করা যায়, তবু মুছে ফেলা যায় না।
- কোজাগরী
- মণিদীপা বিশ্বাস কীর্তনিয়া
যতবার ঘুরে ফিরে ভাবি
সুদূর আমাকে কাছে টানে
হিসেব রেখেছে তালাচাবি
ঘর তো বেঁধেছো এইখানে
দোতারার ছেঁড়া আলপথে
আঁকিবুঁকি জোনাকির ধূপ
ধূ ধূ রং আলো সৈকতে
জল শোনে তারাদের চুপ
বাউণ্ডুলের দিন থামে
এখানেই খুব একা একা
ডানা ভাসা মায়ারাত নামে
চির ঠোঁটে লোনা ঢেউ লেখা
নিষুত সমুদ্দুর দ্যাখে
কোজাগর চোখ পুড়ে যায়
দাউদাউ চাঁদ তবু ডাকে
রুপো ছাই মেখে নিবি আয়…
- ক্ষয়িষ্ণু বুনট
- মৃড়নাথ চক্রবর্তী
আশ্বিনের আলো নিভে আসে ক্রমশ
অস্তিত্বের প্রমাণ ক্রমে অবলুপ্ত হয়
সংকুচিত হয় বিস্ময়—
আদিম পৃথিবীর শরীরে উদ্ভ্রান্ত এক জানোয়ার
হাত-পা ছড়িয়ে
ক্ষয়িষ্ণু কার্তিকের বিকেলে
ধরিত্রীকে পিঠে নিয়ে মদ খায়
তবু কেউ একজন কোনো পৃথিবীর বুকে
গা ধুয়ে সন্ধে দেয়
অমূলক প্রার্থনা শেষে
আলমারি থেকে বের করা উষ্ণ সুতোর বুনট
নির্মেদ নরম চামড়ার ওপর জড়িয়ে নেয়;
রাস্তার পিচে শিশির পড়ে
- নীলকণ্ঠ পাখিটি
- তন্ময় দেব
আমার নীলকণ্ঠ পাখিটি বহুদিন হল
নিখোঁজ। তাকে কাশবনে খুঁজেছি।
খুঁজেছি শাপলা শালুকের ভিড়ে।
মানুষের মাঝে। দেখা পাইনি…
আমিও তো তেমনি হারিয়ে গিয়েছি
বহুদিন হল। মা এলে ঘরে ফিরি।
গৃহত্যাগী দশমী পেরোলে…
পাখিটিরও ফেরার কথা ছিল আমার
সঙ্গে। যেখানে মোক্ষ ও স্পৃহা এক
হয়ে যায়। নতমস্তকে দাঁড়িয়ে থাকে
জীবন, সেখানে চলে যেতাম দুজনে।
কিন্তু হারিয়ে যাওয়াই সমীচীন জেনে
সে বুঝি নিরুদ্দেশ হয়েছে
বিলুপ্তির ধূসর পথে…
The put up কবিতা appeared first on Uttarbanga Sambad.
