মাথাভাঙা: জমি বেচাকেনা কিংবা বিবাদের মীমাংসা— সব কিছুতেই তোলা নেওয়ার দেদার অভিযোগ। অবশেষে গণবিক্ষোভ ও জনরোষের জেরে সেই টাকা সাধারণ মানুষকে ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন মাথাভাঙার ফকিরের কুঠি এলাকার তৃণমূল নেতারা (Tmc leaders)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে (Mathabhanga Information)।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই ফকিরের কুঠি এলাকায় তৃণমূলের বুথ সভাপতি, পঞ্চায়েত সদস্য সহ একাধিক স্থানীয় নেতার দাপট শুরু হয়। বিশেষ করে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের নিশানা করে বিভিন্ন অছিলায় মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো বলে অভিযোগ। এছাড়াও এলাকায় কেউ জমি বিক্রি করলে, নতুন জমি কিনলে কিংবা কারও জমির সীমানা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে, তা মিটিয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হতো। গ্রামবাসীদের দাবি, সব মিলিয়ে এলাকা থেকে প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকা তুলেছে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতারা।
সম্প্রতি এই জুলুমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বকেয়া টাকা ফেরতের দাবিতে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। বৈঠকে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের তলব করা হলেও মাত্র দু’জন নেতা সেখানে উপস্থিত হন; বাকিরা এড়িয়ে যান। গ্রামবাসীদের চাপের মুখে পড়ে গত দু’দিনে ধাপে ধাপে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন ওই তৃণমূল নেতারা।
বাকি টাকা অবিলম্বে ফেরতের দাবিতে গ্রামবাসীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, দলীয় নেতাদের এভাবে টাকা ফেরতের ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। যদিও এই বিষয়ে ব্লকের শীর্ষ তৃণমূল নেতৃত্বের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। ঘটনার জেরে ফকিরের কুঠি এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে।
