মাথাভাঙা: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তারি এবং দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল কোচবিহারের মাথাভাঙ্গায় (Mathabhanga)। আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়া থেকে সালিশি সভার জরিমানা—বিভিন্ন অছিলায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তোলা ‘কাটমানি’ (Lower Cash) ফেরত দিলেন মাথাভাঙ্গা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাকলি ঘোষ। শুক্রবার রাতে স্থানীয় দুর্গামন্দিরে এলাকাবাসীদের ডেকে প্রথম দফায় প্রায় এক লক্ষ টাকা ফেরত দেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউন্সিলর এবং যুব তৃণমূল নেতা নয়নজ্যোতি সাহা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে এই টাকা আদায় করেছেন। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর যুবনেতা এলাকা ছাড়া হলেও, কাউন্সিলর এতদিন গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। পরে বাড়ি ফিরে তিনি ‘কিস্তিতে’ টাকা ফেরানোর আশ্বাস দেন (Councillor Returns Lower Cash)।
ভুক্তভোগী দেবজিৎ সাহার অভিযোগ, ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে তাঁর থেকে ৪৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এদিন মাত্র ২৫ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন তিনি। একই অভিযোগ প্রণব প্রকাশেরও। তাঁর দাবি, জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের নাম করে নেওয়া ৫০ হাজার টাকার অর্ধেক আজ ফেরত পেয়েছেন।
নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন কাউন্সিলর কাকলি ঘোষ। তাঁর সাফাই, “দলের প্রভাবশালী নেতাদের চাপে পড়েই এসব করতে হতো। নয়নজ্যোতি সাহা এখন পলাতক, তাই সব দায় এখন আমার ওপর। আমি ব্যক্তিগতভাবে মানুষের টাকা ধীরে ধীরে ফিরিয়ে দিচ্ছি।” এই ঘটনাকে তীব্র কটাক্ষ করে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না!” রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকার বদলের আশঙ্কায় ভয়েই এখন কাটমানি ফেরাতে মরিয়া অভিযুক্তরা। ঘটনাটি ঘিরে মাথাভাঙ্গা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
