উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভাইঝির রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল বীরভূমের রামপুরহাটে (Rampurhat)। রামপুরহাট থানার কুসুম্বা গ্রামে নিজের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় নামে ওই যুবতীর ঝুলন্ত দেহ। পরিবারের দাবি, তিনি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (Trainer recruitment rip-off) মামলায় নাম জড়ানোয় চাকরি হারানো এবং পারিবারিক অশান্তির জেরে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিন কুসুম্বা গ্রামে পৈতৃক বাড়ির দোতলার বারান্দায় গলায় কাপড় জড়ানো অবস্থায় বৃষ্টির ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত খবর দেওয়া হলে রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান এটি আত্মহত্যার ঘটনা হলেও, ঠিক কোন কারণে তিনি এই চরম পথ বেছে নিলেন, তা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে পুলিশি তদন্ত।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বৃষ্টি এবং তাঁর চিকিৎসা চলছিল। রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মামারবাড়ি। মমতার মামাতো ভাই তথা রামপুরহাট ১ নং ব্লকের তৃণমূল সভাপতি নীহার মুখোপাধ্যায়ের কন্যা হলেন বৃষ্টি। তিনি স্থানীয় একটি স্কুলে ‘গ্রুপ সি’ পদে চাকরি করতেন। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শুরু হওয়ার পরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে আসেন তিনি। সিবিআই বা ইডি-র পেশ করা নথিতে ওএমআর শিটে ব্যাপক গরমিল ও কারচুপির প্রমাণ মেলায় কাঠগড়ায় ওঠেন বৃষ্টি। পরবর্তীতে আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার জেরে তাঁকে সেই চাকরি হারাতে হয়।
চাকরি হারানোর এই ধাক্কার পাশাপাশি বিগত কিছুদিন ধরে তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলাও আদালতে বিচারাধীন ছিল। এই সমস্ত পারিবারিক ও আইনি চাপ এবং সামাজিক নানা জটিলতার কারণে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আত্মীয়রা। ঘটনার দিন সকালেও তাঁকে নিজের ঘরেই দেখা গিয়েছিল। কিন্তু দুপুরের দিকে এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে। একদিকে শিক্ষক নিয়োগ মামলার আইনি চাপ এবং অন্যদিকে বিবাহ বিচ্ছেদের মানসিক যন্ত্রণা—সবমিলিয়ে এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর চাপ কাজ করছিল কি না, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার জেরে সমগ্র কুসুম্বা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

