উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যের সমস্ত সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এবার থেকে রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সব সাংবাদিক প্রতি মাসে পেনশন বাবদ পাবেন ৫০০০ টাকা (Journalist Pension)। পাশাপাশি, কর্মরত সাংবাদিকদের জন্যও পুজোর আগে বিশেষ বোনাস (Puja Bonus) এবং স্বাস্থ্যবিমার (Well being Insurance coverage) সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের (Accreditation card) দীর্ঘদিনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এতদিন শুধুমাত্র অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকরাই পেনশন পেতেন। এর ফলে মাঠে কাজ করা কিছু সাংবাদিক এই সুবিধা পেলেও, ডেস্ক বা নেপথ্যে কাজ করা বহু সংবাদকর্মী সরকারি এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন। সেই জটিলতা কাটিয়ে এবার নিয়মে বড়সড়ো শিথিলতা এনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন থেকে কার্ড ছাড়াই যোগ্য অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা ৫০০০ টাকা মাসিক পেনশন পাবেন।
এছাড়াও উৎসবের মরশুমে সাংবাদিকদের মুখে হাসি ফোটাতে পুজোর বোনাসের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। এতদিন শুধুমাত্র কলকাতা ও অন্যান্য জেলার অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী সাংবাদিকরাই সামান্য বোনাস পেতেন। এখন থেকে তা বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করা হয়েছে এবং এই বোনাস পাওয়ার ক্ষেত্রেও কার্ড থাকার নিয়ম তুলে নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের যে সমস্ত সাংবাদিক আবেদন করবেন, তাঁরা প্রত্যেকেই এই পুজো বোনাস পাবেন। এর পাশাপাশি, রাজ্যের সমস্ত সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। সমস্ত সাংবাদিককে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’-র আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে কর্মরত সাংবাদিকদের পাশাপাশি সংবাদকর্মীদের পরিবার চিকিৎসা সংক্রান্ত আর্থিক সুরক্ষা ও স্বস্তি পাবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী এও জানান, যে সাংবাদিকরা ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান যোজনায় পরিবার সহ আওতাভুক্ত রয়েছেন, তাঁদের আর নতুন করে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনায় আবেদন করার প্রয়োজন নেই।
এদিন সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা ও বিতর্কের জায়গা সবসময় খোলা রয়েছে। তবে দেশপ্রেম ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপস না করার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, দেশ দুর্বল বা অস্থির হয় এমন বিষয় থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। সেইসঙ্গে কোনও সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আস্থায় আঘাত লাগে এমন ভাষা ব্যবহার না করার বিষয়েও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

