উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : রাজ্য রাজনীতিতে ৪ মে-র পরবর্তী বেনজির পালাবদলের আবহে এবার সরাসরি ‘ঘরছাড়া’দের চরম বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একদিকে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো একদা আস্থাভাজনদের ‘ঋতব্রত শিবিরের’ দিকে ঝুঁকে পড়া, অন্যদিকে বুধবার বারুইপুরের মিছিলে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা— সব মিলিয়ে বুধবারের ফেসবুক লাইভে দলনেত্রীর কণ্ঠে ঝরে পড়ল তীব্র ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি। সাফ জানালেন, যারা আজ বেইমানি করে বিজেপির দোসর হয়েছে, দলীয় কর্মীরা তাদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না।
বুধবার বারুইপুরের ঘটনার (Baruipur incident) প্রতিবাদে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেখানে মিছিলে অংশগ্রহণকারী তৃণমূল কর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়, যার জেরে বেশ কয়েকজন কর্মী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই ঘটনার পরই নিজের ফেসবুক পেজে ‘লাইভ’ হয়ে মমতা বলেন, “যারা বেইমান, তাদের প্রশ্রয়েই আজ কর্মীদের ওপর অত্যাচার আরও বেড়েছে। এরা নিজেদের পরিবার আর সম্পত্তি বাঁচাতে আজ বিজেপির কোলে গিয়ে দুলছে। এরা নিষ্ঠুর, পৈশাচিক, অমানবিক ও দানবিক।”
সম্প্রতি বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছিলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পাঠিয়েছেন’। এই প্রসঙ্গ টেনে মমতার চাঁছাছোলা আক্রমণ, “এত ছলনা কেন? আমার সিম্বল নিয়ে, সাধারণ কর্মীদের রক্ত জল করা পরিশ্রমে ভোটে জিতে আজ দলবদল! হয় তৃণমূল করুন, না হলে সরাসরি বিজেপি করুন।”
বিক্ষুব্ধ ও শিবির বদলকারী (Trinamool rise up) নেতাদের উদ্দেশ্যে মমতা মনে করিয়ে দেন, আজ যারা ক্ষমতা ভোগ করছেন, তাদের জন্য সাধারণ কর্মীরা একদিন রক্ত দিয়েছেন, পোলিং কিংবা কাউন্টিং এজেন্ট হিসেবে লড়াই করেছেন। দলত্যাগীদের উদ্দেশ্যে শেষ সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “বেইমানদের কথায় পা দেবেন না। এখনও সময় আছে, নিজের ঘরে ফিরে আসুন। নয়তো মাঝগঙ্গায় গেলে একূল-ওকূল দুকূলই যাবে।”

