উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নয়াদিল্লির বিস্ফোরণে মৃতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিট নাগাদ লাল কেল্লার কাছে এক ট্রাফিক সিগনালে চলন্ত গাড়িতে বিস্ফোরণে (Delhi Blast) ৮ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে জঙ্গি নাশকতা বলেই মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক কালের মধ্যে এমন ঘটনার নজির নেই। এর অব্যবহিত পরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা কে ফোন করে রিপোর্ট নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সমাজমাধ্যমে মোদি লেখেন, ‘আজ সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিস্ফোরণে যারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা। আহতরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করুক। ক্ষতিগ্রস্তদের কর্তৃপক্ষ সহায়তা করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছি।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা জানিয়েছেন, ‘খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই দিল্লি পুলিশ ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। এনএসজি এবং এনআইএ তদন্ত শুরু করেছে। এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ শা নিজেও হাসপাতালে আহতদের দেখে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন।
জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যে নাগাদ দিল্লির লালকেল্লার কাছে সুভাষ মার্গ সিগন্যালে একটি চলন্ত গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশপাশের বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দমকলের ২০টি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর পর দেহগুলি উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে গত কয়েকদিন ধরেই দেশে জঙ্গি গোষ্ঠীর নাশকতামূলক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাচ্ছিলেন গোয়েন্দারা। সোমবার সকালে হরিয়ানার ফরিদাবাদে অভিযান চালিয়ে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ বিপুল বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করে। উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর থেকে ডঃ আদিল আহমেদ রাঠের নামক এক কাশ্মীরী চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর সূত্র ধরেই এদিন দিল্লির অদূরে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৩৫০ কেজি অ্য়ামোনিয়াম নাইট্রেট, একটি একে-৪৭ সহ একাধিক অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়। পরে আরও ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করে পুলিশ। ফরিদাবাদের আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ডা. মুজাম্মিল শাকিলের ভাড়া বাড়ি থেকেই এই বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। তিন মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন ওই চিকিৎসক। এই ঘটনায় এখনও অবধিএক মহিলা চিকিৎসকেরও হদিস পাওয়া গিয়েছে।
