উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজনীতিতে চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই—শনিবার শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে এই প্রবাদকেই ফের সত্য প্রমাণ করলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ভোটের হিসাব-নিকাশ ভুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে জাতীয় স্তরে বামেদের সঙ্গে হাত মেলাতে চলেছেন তিনি! শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতা দূরে সরিয়ে সিপিএমের চেনা ‘আজাদি’ স্লোগানও এখন তাঁর মুখে।
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতেই তাকে হাতিয়ার করেছে বিরোধীরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে জাতীয় স্তরে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে। সেই সূত্রেই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে টেলিফোনে ও চিঠিতে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার শ্রীরামপুরের সভা থেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে মমতা বলেন, “ইস্যু এক হলে কোনও দল দেখব না। কে কোন দল করছে দেখার দরকার নেই, একসঙ্গে সেই ইস্যুতে লড়তে হবে।” আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে, যেখানে তৃণমূল সুপ্রিমো ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
উপনির্বাচনের আবহে অতীতে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের পর, এবার সিপিএমের যুবনেতাদের অতিপরিচিত ‘আজাদি’ স্লোগানকে খোলাখুলি সমর্থন করলেন মমতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আজাদি কেন বলা হবে না? ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনে আমরা সবাই ছিলাম। তাহলে কেন শুধু নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হল?” এরপর স্লোগানের সপক্ষে জোরালো সওয়াল করে তিনি যোগ করেন, “একশোবার বলবে। আজাদির মানে তো স্বাধীনতা। তা কেন বলা যাবে না?”
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল চার মাস পেরিয়ে গেলেও যে তিনি সহজে মেনে নিতে নারাজ, তা এদিন ফের স্পষ্ট হয়ে যায় তাঁর কথায়। মমতার অভিযোগ, “আমরা হারিনি, হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসআইআরে এত মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। বহু মানুষ ভোট দিতে পারেননি। এখন তো বোঝা যাচ্ছে, ওরা বাংলা দখলের জন্য এসআইআর করেছিল।”
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রের শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে এবং জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করতে এবার বাম-কংগ্রেস এবং তৃণমূলের এই সম্মিলিত কৌশল আগামী দিনে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিতে চলেছে।

