বর্ধমান: দুই মুসলিম মহিলার সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার এবং ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সোমবার দুপুর থেকে উত্তাল হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার পাঁচ শিমুল রেল গেট এলাকা। অভিযুক্ত গেটম্যান সুরজ মল্লিকের অপসারণের দাবিতে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘক্ষণ হাওড়া-বর্ধমান কর্ড শাখায় উত্তেজনা বজায় থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কামারকুণ্ডু জিআরপি।
ঘটনার সূত্রপাত
বিজল্লা গ্রামের জনৈক কলেজ ছাত্রী ও তাঁর পিসি সোমবার দুপুরে স্কুটি নিয়ে জৌগ্রাম ও ঝাপানডাঙ্গা স্টেশনের মাঝে পাঁচ শিমুল রেল গেট পার হচ্ছিলেন। লাইনের ওপারে গিয়ে হঠাৎ স্কুটিটি বন্ধ হয়ে যায়। কলেজ ছাত্রীর অভিযোগ, তিনি স্কুটি স্টার্ট দেওয়ার চেষ্টা করার সময় গেটম্যান সুরজ মল্লিক তাঁদের কাছে এসে জাত তুলে আপত্তিকর মন্তব্য শুরু করেন। তিনি প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, “আর কিছুদিন পর তোদেরকেও জয় শ্রীরাম বলতে হবে।”
জনরোষ ও পুলিশি হস্তক্ষেপ
অপমানিত মহিলারা বাড়ি ফিরে ঘটনাটি জানালে এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিকেলের মধ্যে শয়ে শয়ে মানুষ রেল গেটে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই গেটম্যান দীর্ঘ দিন ধরেই পথচারীদের সঙ্গে অভদ্র আচরণ করে আসছিলেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জামালপুর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় তারা কামারকুণ্ডু জিআরপি-র সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিকেলে জিআরপি কর্তারা ঘটনাস্থলে এসে জনরোষ চাক্ষুষ করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সুরজ মল্লিককে ওই গেট থেকে সরানোর কথা ঘোষণা করেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
জামালপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই রেল গেটে ইতিধ্যেই নতুন একজন গেটম্যান নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত। যদিও এই বিষয়ে পূর্ব রেলের সিপিআরও বেদ প্রকাশ জানিয়েছেন, ঠিক কী ঘটেছে তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
