উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : ভারতের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী থাকার অনন্য নজির গড়ার পর, দিল্লির ‘ভারত মণ্ডপম’-এ এনডিএ (NDA) জোটের মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে চাঁছাছোলা রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বুধবারের এই বিশেষ উদযাপন মঞ্চ থেকে একদিকে যেমন তিনি তাঁর দীর্ঘ শাসনকালকে ‘ঈশ্বরীয় কৃপা’ ও ‘আধ্যাত্মিক সাধনা’ বলে অভিহিত করলেন, ঠিক তেমনই অন্যদিকে কংগ্রেসের দীর্ঘ কয়েক দশকের অর্থনৈতিক নীতিকে তীব্র ভাষায় বিঁধলেন।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিশ্বের বড় বড় দেশের মন্দার বাজারেও ভারতের ৭.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, গত ১২ বছরে দেশ হীনম্মন্যতার অন্ধকার কাটিয়ে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। দেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এই ঐতিহাসিক কৃতিত্বকে নিজের ব্যক্তিগত জয় হিসেবে দেখতে নারাজ মোদী। এনডিএ-র শরিক দলগুলির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এত দীর্ঘ সময় ধরে ‘মা ভারতী’-র সেবা করার সৌভাগ্য কেবল পরমেশ্বরের বিশেষ কৃপাতেই সম্ভব হয়েছে। আমার কাছে দেশের জনগণই ঈশ্বরের মূর্ত প্রতীক। তাই এই দীর্ঘ ১২ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদকে আমি কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা ভোগ নয়, বরং এক আধ্যাত্মিক সাধনা হিসেবেই গণ্য করেছি।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১৪ সালের আগে দেশজুড়ে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কোয়ালিশন রাজনীতির টানাপোড়েনে ভারতের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল। এনডিএ সরকার আসার পরেই দেশ প্রথম একটি স্থায়ী এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এমন সরকার পেয়েছে।
এদিনের সভায় মোদির বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল কংগ্রেসের অর্থনৈতিক ইতিহাসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। স্বাধীনতার পর ভারতের মন্থর অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে বামপন্থী ও নেহরুবাদী অর্থনীতিবিদরা যেভাবে ‘হিন্দু গ্রোথ রেট’ বলে দেগে দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস নিজেদের কাজের ধরন, দুর্নীতি ও নীতিগত পক্ষাঘাত লুকাতে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এই ধীরগতির প্রবৃদ্ধির কলঙ্ক দেশের বিশাল হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল। মোদির কথায়, ‘বাস্তবে এই মন্থর পরিস্থিতির নাম হওয়া উচিত ছিল ‘কংগ্রেস গ্রোথ রেট’। কারণ সেই সময়ে সুশাসন, সঠিক নীতি এবং সৎ উদ্দেশ্যের চরম অভাব ছিল।” অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময়ে দেশ প্রথম উন্নয়নের স্বাদ পেলেও, পরবর্তী ইউপিএ সরকার দেশকে একের পর এক দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে ঠেলে দিয়ে প্রবৃদ্ধির গতি রুদ্ধ করে দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
বিগত ১২ বছরে তাঁর সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে ২৫ কোটি মানুষের দারিদ্র্যসীমা থেকে মুক্তির কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আজ দেশের দরিদ্রতম মানুষটিও বিশ্বাস করে যে সঠিক দিশা থাকলে লড়াই জেতা সম্ভব। তবে মোদির আগামী দিনের মূল ফোকাস দেশের এই নতুন ‘উত্থিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি’ (Neo-Center Class)। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, দারিদ্র্য জয় করে যে বিশাল অংশটি আজ মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে, তাদের কোনো অবস্থাতেই আর অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণির স্থায়িত্ব ও উন্নয়নের জন্য তাঁর সরকার আগামী দিনে দিন-রাত এক করে কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রীর এই আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ঝাঁঝালো আক্রমণ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, রেকর্ড গড়ার পর আগামী দিনগুলিতে আরও কঠোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের পথেই হাঁটতে চলেছে মোদি সরকার।
