রতুয়া: গঙ্গার জল কমতেই মালদহের রতুয়ায় শুরু হয়েছে বিধ্বংসী ভাঙন (Malda Ganga Erosion)। বুধবার ভোর থেকে মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের জিতুটোলা ও মুলিরামটোলা এলাকায় গঙ্গার গ্রাসে মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে গিয়েছে ২২টি বাড়ি এবং দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চোখের সামনে নিজেদের ভিটেমাটি নদীগর্ভে চলে যেতে দেখে চরম আতঙ্কে ঘরের আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র গুটিয়ে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে শুরু করেছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার থেকেই গঙ্গায় ভাঙন শুরু হলেও বুধবার ভোর থেকে তার রূপ অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর হিংস্র গ্রাসে একে একে প্রায় ২২টি পাকা ও কাঁচা বাড়ি, গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি এবং রাস্তাঘাট নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। এদিন সম্পূর্ণভাবে গঙ্গায় তলিয়ে গেছে জিতুটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাশাপাশি মুলিরামটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও সিংহভাগ নদীগর্ভে চলে গিয়েছে, বাকি অংশটি যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
ভাঙনের মুখে পড়ে আস্ত একটি মনসা মন্দির। অন্যদিকে রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পুজোসামগ্রী ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র সময়মতো সরিয়ে নিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এই গতিতে ভাঙন অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকে সম্পূর্ণ মুছে যাবে মহানন্দটোলার বিস্তীর্ণ জনপদ।
একের পর এক ঘরবাড়ি ও সামাজিক পরিকাঠামো নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নদীর এই আগ্রাসী রূপ দেখে ছোট থেকে বড়—সকলের মধ্যেই ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতি বছরই বর্ষা ও জল কমার সময় তাঁদের এভাবেই ভিটেমাটি হারানোর যন্ত্রণার মুখে পড়তে হয়। অবিলম্বে ভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপের জোরালো দাবি জানিয়েছেন আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা।

