উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিজয়া দশমীর উৎসবের আমেজের মধ্যেই মর্মান্তিক ও রক্তক্ষয়ী ঘটনার সাক্ষী থাকল মালদা জেলার ইংরেজবাজার (English Bazar) থানার রামকেলি এলাকা। গতকাল রাতেই উৎসবের আনন্দের সুর কেটে গিয়ে সেখানে নেমে আসে শোক ও উত্তেজনার ছায়া। ২৭ বছর বয়সি সমীর ঘোষ নামের এক স্থানীয় বিজেপি কর্মীকে তাঁরই বাড়িতে ঢুকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে কুপিয়ে এবং পরে গুলি চালিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে (Malda Bjp Homicide)। এই বীভৎস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
পরিবার সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে যে, রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই মৃত সমীর ঘোষকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। হুমকির মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে তিনি ভয়ে বাড়ির বাইরে বের হওয়াই প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। দশমীর সন্ধ্যায় যখন চারপাশ উৎসবে মুখর এবং বাড়িতে তিনি সম্পূর্ণ একা ছিলেন, সেই সুযোগটিই কাজে লাগায় দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ১০ থেকে ১১ জনের একটি সশস্ত্র দল হানা দেয় তাঁর বাড়িতে। এরপর বর্বরোচিত কায়দায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। শুধু তাই নয়, আক্রমণকারীরা মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য সমীরের ওপর দুই রাউন্ড গুলিও চালায় বলে অভিযোগ পরিবারের।
এই ঘটনার পরই নিহতের পরিবার সরাসরি আঙুল তুলেছে শাসকদলের দিকে। মৃত বিজেপি কর্মীর ভাই বিবেক ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁর দাদা ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই স্থানীয় কিছু তৃণমূলকর্মীর (TMC) সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিলো। বিবেকের স্পষ্ট অভিযোগ, এলাকার এক পরিচিত তৃণমূলকর্মী শত্রু ঘোষ এবং তাঁর অনুগামীরাই দলবল নিয়ে এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। উল্টোদিকে শাসকশিবিরের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে, তাদের পরিবারের লোকজনের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে।
খুন ও সংঘর্ষের এই খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো রামকেলি এলাকায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ইংরেজবাজার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে যে এই মুহূর্তে খুনের মূল কারণ পুরোপুরি স্পষ্ট নয় এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া অভিযোগ ও বয়ানের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। উৎসবের আবহে এমন নৃশংস খুনের ঘটনায় রামকেলি এলাকার আতঙ্ক ও থমথমে পরিবেশ রয়েছে।

