উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: গতকালই ৭ দিন পর জামিন হয়েছে। জেল থেকে বেরোনোর পর কয়েক ঘন্টা কাটতে না কাটতেই ফের একবার আইনি ফাঁদে জড়িয়ে পড়লেন ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janata Celebration) দুই শীর্ষস্থানীয় মুখ সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। যন্তর মন্তরে পূর্ব নির্ধারিত বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং সরকারি নির্দেশ অমান্য করার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য দিল্লি পুলিশের ক্রাইম শাখা (Delhi Police Crime Department) এই দুই সিজেপি নেতাকে তলব করেছে (CJP leaders summoned)। একই সঙ্গে এই মামলায় অজিঙ্ক শিন্ডেকেও তলব করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। আগামী দিনে এই তদন্তপ্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
গত ১৩ অক্টোবর ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে নিষেধ উড়িয়ে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন সিজেপি সদস্যরা। সেই সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত ওই প্রতিবাদস্থলে জোরপূর্বক ঢোকার চেষ্টা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির সীমানা লঙ্ঘন করার অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা রুজু করা হয় তাদের বিরুদ্ধে। কনাট প্লেস এবং সংসদ মার্গ থানায় নথিভুক্ত হওয়া এই দুটি এফআইআর নিয়ে পরবর্তীকালে আরও গভীরে তদন্তের জন্য পুলিশের বিশেষ ইউনিট অর্থাৎ ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশি সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থল হিসেবে অনুমোদিত না থাকা সত্ত্বেও ব্যারিকেড ভেঙে একটি বেসরকারি ভবনের ভেতর দিয়ে ওই এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন আন্দোলনকারীরা।
বিগত এক সপ্তাহ বিচারবিভাগীয় হেফাজতে কাটানোর পর বুধবারই তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। পুলিশের পক্ষ থেকে রিমান্ডের মেয়াদ আরও তিন দিন বাড়ানোর আবেদন করা হলেও, বিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেন। এর আগে শান্তিভঙ্গ এবং পূর্বে প্রদত্ত বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর তাঁদের আটক করা হয়েছিল। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ জামিনদার জমা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শান্তি বজায় রাখার লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পরেই তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের শর্ত অনুযায়ী, যন্তর মন্তরে যতদিন না নিষেধাজ্ঞা উঠছে, ততদিন সেখানে কোনও ধরনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এই নেতাদের। পাশাপাশি, সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি যেন সম্পূর্ণভাবে সংবিধানের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সেই বিষয়েও কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জামিন পাওয়ার সুবাদে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, ক্রাইম ব্রাঞ্চের সাম্প্রতিক তলব সেই স্বস্তিতে জল ঢেলেছে। রাজৌরি গার্ডেনে অবস্থিত ক্রাইম ব্রাঞ্চের কার্যালয়ে হাজির হয়ে দুই নেতাকে তাঁদের বিবৃতি রেকর্ড করতে হবে। আগামী দিনে এই মামলার আইনি লড়াইতে কী তথ্য উঠে আসে এবং তদন্তকারীরা কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

