হরষিত সিংহ, মালদা: বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান খরচ সামলাতে পকেটে ধাক্কা লাগছে। সেই খরচ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহারের প্রতি ক্রমশ আগ্রহ বাড়ছে মালদার মানুষের (Malda)। সেই কারণেই কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলী যোজনা ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসাহ চোখে পড়ার মতো (PM Surya Ghar Yojana)। ইতিমধ্যে মালদা জেলায় এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে প্রায় দশ হাজার গ্রাহক রেজিস্ট্রেশন করেছেন। বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে ভেরিফিকেশন করা হয়েছে ৪০০ আবেদনপত্র। তার মধ্যে ১০০ জনের বাড়িতে ইতিমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্ট বসানো হয়েছে।
বাড়ির ছাদে সোলার প্ল্যান্ট বসিয়ে নিজেরাই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় এই প্রকল্পে। আর সেইসঙ্গে সরকারি ভরতুকি, কম সুদে ঋণ এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিল কমার সুবিধা তো রয়েছেই। দপ্তরের আধিকারিকরা বলছেন, এসব সুবিধা মিলছে বলেই এই প্রকল্পে ঝুঁকছে বহু পরিবার। মালদা জেলা বিদ্যুৎ বণ্টন বিভাগের ম্যানেজার সৌমেন দাস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলী যোজনা কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রকল্প। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে জেলায় জেলায় ব্যাপক কাজ হচ্ছে। এই জেলায় ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রকল্প বিদ্যুতের সাশ্রয় করতে ও গ্রিন এনার্জি ব্যবহারের বড় উদ্যোগ।’ আর আবেদন যাচাইয়ের প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে বেশ কিছু রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। সেগুলি ভেরিফিকেশন করার পর আবেদন নেওয়া হচ্ছে। সৌমেন বলেন, ‘আমরা আশা করছি ১৫ অগাস্টের মধ্যে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কানেকশন সম্পূর্ণ করতে পারব। এই প্রকল্পে গ্রাহকদের অনেক সুবিধা রয়েছে।’
এই প্রকল্পে বাড়ির ছাদে এক, দুই ও তিন কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্ল্যান্ট বসানো হচ্ছে। তিন কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ভরতুকি মিলছে। এক কিলোওয়াট প্রকল্পে খরচ প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা এবং তিন কিলোওয়াট প্রকল্পে প্রায় ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। সব ক্ষেত্রেই সরকারি ভরতুকি রয়েছে। পাশাপাশি পুরো খরচের জন্য কম সুদে ব্যাংক ঋণের সুযোগ থাকায় সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপও কমছে। ফলে মাসিক বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের পাশাপাশি নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবহারের দিকেও মানুষ আগ্রহী হচ্ছেন।
অনেক গ্রাহকের দাবি, আগে আবেদন করলেও প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। বর্তমানে তার গতি বেড়েছে। মালদার বাসিন্দা সঞ্জয়কুমার নন্দী বলেন, ‘প্রায় আড়াই বছর আগে আমি এই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম। ঠিকা সংস্থার মাধ্যমে বাড়িতে কাজও হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি এতদিন। নতুন সরকার আসতেই এই প্রকল্পের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।’
ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, ‘গত ১৫ বছর রাজ্যের তৃণমূল সরকার থাকাকালীন কেন্দ্র সরকারের কোনও প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। মানুষ কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাগুলি সুন্দরভাবে পাচ্ছেন, আগামীতেও পাবেন।’

