প্রকাশ মিশ্র,মালদা: যাদবপুরের ঘটনায় গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে প্রস্তাবিত সমাবর্তন উৎসব নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন উৎসবে আচার্য তথা রাজ্যপালের সম্মতি না থাকায় ওই উৎসবকেই বেআইনি ঘোষণা করেছেন আচার্য তথা রাজ্যপাল। উলটে অবসরপ্রাপ্ত উপাচার্যকে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে প্রস্তাবিত সমাবর্তন উৎসব হবে কি না, এই নিয়ে ধন্দ দেখা দিয়েছে।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মের কোনও ফাঁকফোকর রাখতে চাইছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং স্টাটিউট মেনে বিশ্ববিদ্যালয় কোর্টের জন্য উপাচার্য মনোনীত প্রতিনিধি ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রতিনিধি পেতে আবেদন জানিয়েছে। প্রতিনিধির না পেলে সমাবর্তন উৎসবকে ঘিরে অনিশ্চয়তা অনিবার্য।
বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘গৌড়বঙ্গে আটবছর পর সমাবর্তন উৎসব হবে। ছাত্রছাত্রীরা শংসাপত্র পাবেন এটা খুব আনন্দের। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হলেন আচার্য। তাঁর সম্মতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন উৎসব করা যায় না। যাদবপুরের ঘটনা তার প্রমাণ। আচার্যের সম্মতি ছাড়া সমাবর্তন উৎসবে যে শংসাপত্র দেওয়া হবে তার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।’ সমস্ত নিয়ম মেনে সমাবর্তন উৎসব করার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন ওয়েবকুটার জেলা সম্পাদক গজন বাড়ুই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন এবং বিধিতে কোর্ট গঠনের জন্য ১৯ জন এবং আচার্য মনোনীত পাঁচজন শিক্ষাবিদ সদস্যের কথা বলা আছে। এব্যাপারে স্পষ্ট মতামত জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ দাস। তার বক্তব্য, ‘আমরা সমস্ত কিছু আইন মেনে করতে যাচ্ছি। সমাবর্তন উৎসবের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু আচার্য এবং উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রতিনিধিদের মেয়াদ আগেই শেষ হয়েছে। আমরা এই কারণে লিখিতভাবে রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু প্রতিনিধি এখনও পাইনি। এব্যাপারে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছি।’
