তুফানগঞ্জ: হিমঘরে কে আগে আলু রাখবে, তাই নিয়ে বচসা। ভ্যানচালকদের মধ্যে রেষারেষিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়াল তুফানগঞ্জে৷ রবিবার তুফানগঞ্জ থানার অন্তর্গত চামটা এলাকার ঘটনা৷ আলু রাখার জন্য রাত থেকেই হিমঘরের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ভুটভুটিচালকরা। সকাল নয়টার দিকে চার-পাঁচজন ভুটভুটিচালক এসেই হিমঘরে ঢোকার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অভিযোগ, লাইনে অপেক্ষা করতে রাজি ছিলেন না তাঁরা। এভাবে ওভারটেক করে যাওয়ার প্রতিবাদ করেন কয়েকজন। তা নিয়েই মারামারি। প্রতিবাদকারী দুজনকে মারধর করে বুকের হাড় ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ভুটভুটিচালকের বিরুদ্ধে। এরপর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ। গোটা ঘটনায় রবিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় তুফানগঞ্জ থানায়।
জখম দুই ভ্যানচালক সম্পর্কে দুই ভাই। মনোয়ার হোসেন ও নুর হোসেন৷ স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, হিমঘরে আলু রাখার জন্য রাতভর হিমঘরের সামনে রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন বক্সিরহাটের বাসিন্দা ভুটভুটিচালক মনোয়ার ও নুর৷ অভিযোগ, আচমকা কয়েকজন ভ্যানচলক আলুবোঝাই গাড়ি নিয়ে তাঁদের সামনে চলে আসে৷ মনোয়ার প্রতিবাদ করলে সেই ভ্যানচালক ও তাদের সঙ্গীরা এসে মারধর করে। মনোয়ারকে বাঁচাতে ভাই নুর এগিয়ে আসেন। তাঁকেও রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। ঘটনায় বুকের হাড় ভেঙে যায় নুরের। ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় তুফানগঞ্জের চামটা এলাকায়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকেই উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে। বর্তমানে দুজনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
থানায় অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত মনোয়ার হোসেন। তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তদন্ত শুরু হয়েছে।আহত মানোয়ার বলেন, ‘সারারাত আলুর ভ্যান নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম৷ সকাল হতেই একদল ভ্যানচালক বিশৃঙ্খলা শুরু করে। প্রতিবাদ করলে আমাদের মারধর করে।’
অন্য একটি ভুটভুটির চালক মফিজুল হোসেন বলেন, ‘নিয়ম ভেঙে হিমঘরে আলুর গাড়ি ঢোকাতে গিয়ে এই অশান্তি শুরু হয়েছে। সারা রাত অপেক্ষার পরে চালকরা কেন নিয়ম না মেনে গায়ের জোর খাটানো মেনে নেবেন? তাঁরা চান পুলিশের নিরাপত্তায় আলুর গাড়ির লাইন দেখাশোনা হোক। চালকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।’
চামটার রামেশ্বরম হিমঘরে চার লক্ষ বস্তায় কুড়ি হাজার টন আলু মজুত রাখার ক্ষমতা আছে। সরকারি নিয়ম মেনে বন্ড বিলি করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী সোমবার আলু জমার শেষ দিন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, আলু মজুত রাখতে উদ্গ্রীব ট্রলি ও ভুটভুটি ভ্যানচালকরা। কে কার আগে হিমঘরে আলু রাখবে তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছে৷ হিমঘরের মালিক বিকাশ আগরওয়াল বলেন, ‘যাঁরা যাঁরা বন্ড নিয়েছেন প্রত্যেকে আলু রাখার সুযোগ পাবেন৷ কোনও সমস্যা হবে না। অথচ আলুর গাড়িচালকরা হিমঘরে আলু রাখতে অকারণ হুড়োহুড়ি করছেন৷ হিমঘরের বাইরে ঝামেলা হয়েছে শুনে আমরা পুলিশকে জানিয়েছিলাম।’
