মালদা: বেআইনিভাবে দু’দিন ধরে এক ব্যক্তিকে আটক করে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। এনিয়ে ইতিমধ্যে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের পরেও পুলিশি ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট না হতে পেরে অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নির্যাতিত ব্যক্তির স্ত্রী। অভিযোগ কালিয়াচক থানার অন্তর্গত যদুপুর কাছেরিপাড়া এলাকার বাসিন্দা জিয়াউল হককে গত ২ ডিসেম্বর কালিয়াচক থানায় (Kaliachak) উপস্থিত হওয়ার জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রায় ৪৮ ঘন্টা আটক করে রাখার পর গত ৪ ডিসেম্বর দুপুরে জিয়াউলকে থানা থেকে ছাড়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় জিয়াউলকে মালদা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করেন পরিবারের লোকজন। পরদিনই সমস্ত ঘটনা জানিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জিয়াউলের স্ত্রী সাবেরা বিবি। কিন্তু তারপরেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। অবশেষে সোমবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। সাবেরা বিবি জানিয়েছেন, স্বামীকে ২ দিন থানায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি।
সাবেরা বিবির আইনজীবী মইদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ কোন উপযুক্ত নোটিশ ছাড়াই আমার মক্কেলের স্বামীকে থানায় ডেকে নিয়ে যায়। কোন কেসে যোগ না থাকলেও ২ ডিসেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাকে আটক করে রাখে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে থানায় যাওয়ার পর আমার মক্কেলের স্বামীকে ছাড়া হয়। শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় তাঁকে মালদা মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি আমরা থানার আইসি সহ পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কোনও সদুত্তর না পাওয়ায় আমার মক্কেল আজ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালত ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।’ পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
