কল্লোল মজুমদার, মালদা: নতুন জমিতে নয়, পুরোনো বিমানবন্দর দিয়েই মালদায় (Malda) বিমান পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি এবার আরও জোরদার হল। আপাতত ১৯ আসনের বিমান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে ৭২ আসনের বিমান চালানোরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে বুধবার জানালেন রাজ্য বিধানসভার বিজেপির মুখ্য সচেতক এবং ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি।
মালদা বিমানবন্দরের (Malda Airport) নিরাপত্তা পরিকাঠামো গড়ে তুলতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে পরিবহণ দপ্তরের কাছে বিমানবন্দরের খোলা অংশে স্থায়ী সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ৮৯ লক্ষ ১৭ হাজার ৩৬৮ টাকা প্রশাসনিক অনুমোদন ও আর্থিক মঞ্জুরির আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ২৭ অগাস্টের চিঠিতে এই তথ্য উল্লেখ রয়েছে। অম্লানের দাবি, ইতিমধ্যে সীমানা প্রাচীর তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
বুধবার অম্লান বলেন, ‘মালদায় বিমান পরিষেবা চালু নিয়ে মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। আমি জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বিমানবন্দর পরিদর্শন করে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুজোর আগে হয়তো সম্ভব হবে না, তবে পুজোর পর পরই মালদায় বিমান পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। সীমানা প্রাচীর গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।’ তাঁর দাবি, প্রথম পর্যায়ে ১৯ আসনের বিমান পরিষেবা চালু হবে। পরবর্তীতে ৭২ আসনের বিমান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তার জন্য আরও কিছু জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। বৈঠকে জমি অধিগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অম্লানের কথায়, ‘বিহারের পূর্ণিয়া-কাটিহারের মধ্যে উড়ান প্রকল্পের মাধ্যমে যেভাবে বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে, একইভাবে মালদা-বালুরঘাট-কলকাতা রুটেও বিমান পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজ্য বাজেটে মালদার বিমান পরিষেবার জন্য অর্থবরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। বাজেট পাশ হয়ে গেলে পরিকাঠামোগত কাজ আরও জোরদার হবে।’
মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জেলা সভাপতি উজ্জ্বল সাহার মন্তব্য, ‘অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে মালদায় বিমান পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালদা থেকে বিপুল পরিমাণ সাধারণ মানুষ সহ ব্যবসায়ী, চিকিৎসকরা প্রতিদিন কলকাতা যান। কিন্তু অনেকটা সময় লেগে যায়। তাই এই বিমান চালু হলে জরুরি কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে।’ আরেক ব্যবসায়ী মণিশংকর সাহার মন্তব্য, ‘দীর্ঘদিন থেকেই মালদা বিমান পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। বহুদিন আগে বায়ুদূত চালু হয়েছিল। তারপর তা বন্ধ হয়ে যায়। মধ্যে কিছুদিনের জন্য কপ্টার পরিষেবা চালু হয়। কিন্তু সেটাও বন্ধ হয়ে যায় পরিকল্পনাহীনতার অভাবে। পরিকল্পনা করে এগোতে পারলে এই বিমান পরিষেবা কার্যকরী হবে।’

