Malda | ঠিকানা কেয়ার অফ ফুটপাথ: কলকাতা থেকে মালদা, অসহায়তার একই ছবি

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


ফুটপাথে জীবন কাটানো মানুষের অসহায়তার গল্পগুলো যেন এক সুতোতেই বাঁধা। কলকাতার রাশিদার মতো সংবাদের শিরোনামে না এলেও মালদার অনীতারাও ফুটপাথবাসী। মাধবনগরে ফুটপাথই তাঁদের কয়েক দশকের ঠিকানা। 

হরষিত সিংহ, মালদা: কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের বাসিন্দা রাশিদাকে চেনেন? অবাক হয়ে মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন অনীতা। অনীতা হালদার। মালদা (Malda) শহরের সংশোধনাগারের পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে মাধবনগর বড় রাস্তা। সেই রাস্তার ধারে বাড়ি অনীতার। বাড়ি বলতে ঝুপড়ি। আর ভিটে বলতে ফুটপাথ। সম্প্রতি পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথে সন্তানের জন্য দুধ গরম করছিলেন রাশিদা। দেখে ফেলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তারপর কী হয়েছে, গোটা রাজ্য জানে। মালদার অনীতা বা প্রতুলরা খবরের কাগজও পড়েন না, সেসব হইচইয়ের খবরও রাখেন না। তাঁরাও ফুটপাথেরই বাসিন্দা। তবে তাঁদের ঘরের ‘চৌকাঠে’ কোনও মন্ত্রী বা হোমড়াচোমড়া কারও পা পড়েনি কোনও দিন।

দরজা থেকে পা ফেললেই রাস্তা। ঘরের দেওয়াল ঘেঁষে একটি সজনে গাছ। সেখানে বসেই কুলো তৈরি করছিলেন প্রতুল ভকত। সামনে দিয়ে যাতায়াত করছে একের পর এক টোটো, বাইক, সাইকেল। কাজের ফাঁকে এক-একবার করে ঘুরে দেখছেন ডান দিকে। কারণ সেখানে বসে খেলছে তাঁর ছোট্ট নাতি। সামনে দরজার সিঁড়ি একটি মাত্র ধাপ। সেখানেই সাজানো তাঁর একের পর এক খেলনা। খেলতে খেলতে নাতি উঠে রাস্তার দিকে এগিয়ে গেলেই কী সর্বনাশটাই না হবে! কাজের ফাঁকে সেদিকেই নজর প্রতুলের।

অল্প দূরে আরও একটি ঝুপড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন জুলি হালদার। ব্যস্ত রাস্তায় টোটোর চলাচলের দিকে কড়া নজর তাঁরও। রাস্তার ওপারে জলের কলে হাত ধুতে গিয়েছে তাঁর মেয়ে। তাই দরজায় দাঁড়িয়ে জুলি। নজর রাখছেন, মেয়ের ফেরার সময় যেন কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে।

একদিন, দু’দিন নয়, ফুটপাথেই গড়ে ওঠা এই বসতির বাসিন্দাদের কেউ ৪০ বছর, আবার কেউ ৩০ বছর ধরে এখানেই রয়েছেন। দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী এইসব মালদাবাসীর কাছে অন্যত্র চলে যাওয়ার উপায় নেই। ‘শখ করে তো আর কেউ ফুটপাথে থাকে না,’ বলছিলেন বছর ষাটের অনীতা। ৩০ বছর ধরে ওই ফুটপাথই তাঁর ঠিকানা। ‘আমাদের অন্য কোনও সমস্যা নেই। খালি বাচ্চাদের নিয়ে খুব আতঙ্কে থাকি। এখন রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া অনেক চলছে। আমরা শিশুদের পা গামছা বা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখি। যাতে ওরা রাস্তায় চলে না যায়।’ বলছিলেন তিনি।

মাধবনগরের এই রাস্তা এক সময় ছয় ফুট চওড়া ছিল। তখন রাস্তার দুই ধার ছিল ফাঁকা। জেলখানায় অস্থায়ী কর্মী হিসাবে নিযুক্ত হন প্রতুল ভকত। রতুয়ার বাসিন্দা প্রতুল তখন এখানেই মাথা গোঁজার জায়গা বানিয়ে নেন। তাঁর কথায়, ‘৪৫ বছর আগে এখানে আসি। আশপাশে ফাঁকা। ধীরে ধীরে বাড়ি হল রাস্তার দুই ধারে। এখন রাস্তাও অনেক চওড়া।’ অস্থায়ী পদে কাজ শেষ করার পর সরকারি কোনও সাহায্য পাননি। থেকেই গিয়েছেন এখানে। সরকারি জমির উপর বসবাস করে কুলো তৈরি করে তাঁর সংসার চলছে।

এখানে বসবাসকারী প্রতিটি পরিবার শহরের স্থায়ী বাসিন্দা। সকলের ভোটার কার্ড থেকে সমস্ত সরকারি নথি রয়েছে। নেই বলতে নিজেদের বসতভিটের জমি। রাস্তার পাশের বাসিন্দা বিজয় হরিজন বলেন, ‘দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাড় হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার যদি আমাদের জমি দেয়, খুব ভালো হত।’ ফুটপাথে থেকেই বিজয় খুশি। সরকারি সমস্ত পরিষেবা নাকি পাচ্ছেন। পুরসভার পক্ষ থেকে কমিউনিটি টয়লেটও বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শুধু মাধবনগরের এই রাস্তার দুই ধারে নয়। পুলিশ লাইনের পাশের রাস্তা থেকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠের পেছনে, বালুচর রাস্তার ধারে, রথবাড়ি এলাকাতেও জাতীয় সড়কের ধারে রয়েছে এই ধরনের বেশ কিছু বস্তি। যেগুলি একেবারে রাস্তার ওপর। কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের সঙ্গে এসব রাস্তার ধারে ও ভারে কোনও তুলনা তো চলে না। খালি গরিব মানুষের জীবনযাপনের অসহায়তার সুচ দিয়ে দুই শহরের গল্পগুলি একসূত্রে গাঁথা হতে থাকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *