গাজোল: মালদার (Malda) গাজোল (Gazole) ব্লকে সরকারি প্রকল্পের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে সোমবার তীব্র উত্তেজনা ছড়াল বিডিও অফিস চত্বরে। ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পে সার্টিফিকেট দেওয়ার পরও মাসের পর মাস টাকা না মেলায় মহিলারা সরাসরি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কোথাও জালিয়াতি করে অন্য আইডি খুলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, তো আবার কোথাও দীর্ঘদিন ধরে অনুদান না পাওয়ার ক্ষোভ— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশ প্রশাসনকে।
ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগ, ঘটা করে অনুষ্ঠান করে তাঁদের হাতে অন্নপূর্ণা যোজনার সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রথম এক মাস টাকা ঢোকার পর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় অনুদান। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, আসল উপভোক্তাদের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অন্য কোনও ব্যক্তির নামে অ্যাকাউন্ট বা আইডি বানিয়ে টাকা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে (Fraud)।
গাজোলের চিত্তপল্লী এলাকার বাসিন্দা কানন সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার সার্টিফিকেট দেখিয়ে অভিযোগ করেন, “সরকারের পক্ষ থেকে বিডিও অফিসে ডেকে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেকের সাথে আমাকেও অন্নপূর্ণা যোজনার সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি শুধুমাত্র জুন মাসে টাকা পেয়েছি। তারপর থেকে আর টাকা পাচ্ছি না। সার্টিফিকেট দেওয়া হল অথচ টাকা কেন পাচ্ছি না তা জানতেই বিডিও অফিসে এসেছি। কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছিনা।”
পার্বতী হেমরম নামে এক আদিবাসী মহিলার বক্তব্য, “আমার মোবাইল দিয়ে আমি আইডি তৈরি করেছি। সেই আইডিতে জুলাই মাসে টাকা ঢুকেছে। অথচ এই মাসে টাকা ঢোকেনি। কারন জানতে গিয়ে দেখি আমার মোবাইল নম্বর দিয়ে আরেকটি আইডি খোলা হয়েছে। মৌমিতা মন্ডল নামে সেই মহিলা আইডিতে ঢুকছে টাকা। কিভাবে মোবাইলের ওটিপি ছাড়া আইডি বানানো গেল তা নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছি।”
বিশ মাইল এলাকার বিউটি শবনম নামে এক মহিলা বললেন, “আমার স্বামী মারা গেছে। কিন্তু বিধবা ভাতা পাই না। আগে লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতাম। তাতে বেশ কিছুটা সাশ্রয় হত। অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু কোনও টাকা পাচ্ছি না। আমাদের আবেদন, যারা যোগ্য তাদের টাকা দেওয়া হোক।”
মহিলাদের এই লাগাতার বিক্ষোভের খবর পেয়ে দ্রুত গাজোল থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘক্ষণ বুঝিয়ে এবং ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। তবে আগামী দিনেও যদি বকেয়া টাকা না মেটে, তবে আরও বৃহত্তর আন্দোলন ও বিডিও অফিস ঘেরাও করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ মহিলারা।

