হরষিত সিংহ, মালদা: প্রথমবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নেমেই পদকপ্রাপ্তির স্বাদ পেল মালদার (Malda) পলাশ মণ্ডল। বাহরিনে আয়োজিত এশিয়ান যুব গেমসে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগে ৫ হাজার মিটার হাঁটা প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান দখল করল সে। জিতল ব্রোঞ্জ পদক। ৫ হাজার মিটার হাঁটতে পলাশ সময় নেয় ২৪ মিনিট ৪৮.৯২ সেকেন্ড। ওই বিভাগে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানাধিকারী দুজনই চিনের প্রতিযোগী। ২৮ অক্টোবর পলাশ দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবে। এরপর ৩০ ও ৩১ অক্টোবর কলকাতায় রাজ্য স্তরের মিটে হাঁটবে। এখন পলাশের একটাই লক্ষ্য, জাতীয় যুব প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করার।
পদক জয়ের পর পলাশের বক্তব্য, ‘জীবনে প্রথমবার আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতায় দেশের হয়ে নেমে পদক পেলাম। খুব ভালো লাগছে।’ সঙ্গে তার আক্ষেপ, ‘তবে জুতোর জন্য হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল। আরও ভালো জুতো থাকলে হয়তো ফল অন্যরকম হলেও হতে পারত।’ পলাশের বাড়ি ইংরেজবাজারের বাহান্নবিঘা গ্রামে। সে বিভূতিভূষণ হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। বাবা গয়া মণ্ডল পেশায় সবজি বিক্রেতা। মালদা শহরের ঝলঝলিয়া বাজারে তাঁর দোকান।
পলাশের সাফল্যে খুশি পরিবার সহ গোটা গ্রাম। পদক জিতেই সে প্রথম ফোন করে বাবাকে। তারপর কোচ ও স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা হয়। ছোট থেকেই খেলাধুলোয় আগ্রহ পলাশের। একসময় সে স্কুলের হয়ে খো খো, কাবাডি, ফুটবল খেলত। গত দুই বছর ধরে হাঁটা প্রতিযোগিতার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছে।
পড়াশোনার পাশাপাশি কোচ অমিতাভ রায়ের কাছে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ নেয় পলাশ। কখনও বিমানবন্দর মাঠে, আবার কখনও কাজিগ্রাম মাঠে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাথলেটিক্স সাব-কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি সুদামচন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি ভীষণ খুশি। পলাশকে দেখে জেলার আরও অনেক ক্রীড়াবিদ অনুপ্রাণিত হবে।’ গয়া বলেন, ‘ছেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। ফোনে কথা হয়েছে। আমি চাই, ও আরও এগিয়ে যাক।’
পরিবারের আর্থিক অনটনের সঙ্গে ক্রমাগত লড়াই করে রাজ্য থেকে জাতীয় স্তরে একাধিক সাফল্য পাওয়ার পর পলাশ এবার যুব এশিয়ান গেমসে সুযোগ পায়। দেশের হয়ে ছেলেদের ৫ হাজার মিটার হাঁটা প্রতিযোগিতায় পলাশই ছিল একমাত্র প্রতিনিধি। মেয়েদের দলে দুজন হাঁটা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।
