গাজোল: আদিনা ডিয়ার পার্কে (Adina Deer Park) হরিণ ছাড়াও অন্যতম আকর্ষণ পরিযায়ী পাখি। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রত্যেক বছরই আদিনা মৃগদাবের বনাঞ্চলে ভিড় জমায় শামুকখোল পাখি ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি (Migratory birds)। মূলত জুন-জুলাই মাস থেকে পাখি আসতে শুরু করে আদিনায়। এরপর বাসা বেঁধে, ডিম পেড়ে, শাবককে বড় করে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে আদিনা বনাঞ্চল ছেড়ে চলে যায় এই বিদেশি পাখির দল। প্রতি বছরই কি পরিমান পাখি আসে এবং প্রজনন ঘটিয়ে উড়ে যাওয়ার আগে তার সংখ্যা কত সেই বিষয় নিয়ে চলে পাখি সুমারির কাজ। এবছরও মালদা জেলা বন দপ্তরের উদ্যোগে শনিবার থেকে শুরু হল পাখি শুমারির কাজ। চলবে আরও দু-একদিন। বন দপ্তরের অনুমান গত বছরের থেকে এবছর পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বেশ কিছুটা বেড়েছে।
আদিনা ডিয়ার পার্কের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারভাইজার ইন্দ্রজিৎ দাস বললেন- ‘নিয়ম করে প্রতিবছর আদিনা ফরেস্টে পরিযায়ী পাখির দল আসে। এবারেও তারা এসেছে। প্রায় প্রতিটি বাসাতেই ছানাদের দেখা মিলেছে। নিয়ম করে প্রতিবছরই পাখি শুমারির কাজ করা হয়। এবারেও সেই কাজ শুরু হয়েছে শনিবার সকাল থেকে। এই কাজ সম্পূর্ণ করার পর বলা যাবে কত পরিমান পাখি এবার এসেছে। গত বছর প্রায় ১৪ হাজার পাখি গণনা করা হয়েছিল। তবে এবার পাখির সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আজ সারাদিন ধরে চলবে পাখি গণনার কাজ। তবে সব কাজ আজকে সম্পূর্ণ হবে না। আরও দু-এক দিন লাগতে পারে।’
পাখি গণনার কাজে যুক্ত রয়েছেন মালদা ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার মনোজিৎ শেঠ। তার বক্তব্য, ‘নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যই দিনের পর দিন পরিযায়ী পাখিদের ভিড় এখানে বাড়ছে। বনকর্মী ছাড়াও পাখিদের নিরাপত্তার জন্য বনাঞ্চল লাগোয়া সাধারন মানুষ এবং জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি যথাসম্ভব চেষ্টা চালাচ্ছে। পর্যটকেরা যাতে পাখিদের বিরক্ত না করেন তার জন্য বনকর্মীরা সবসময় নজর রেখে চলেছেন। আমরা মূলত গাছ ধরে পাখি গণনা করছি। গাছটি কোন প্রজাতির, গাছটি কত বড় এবং মোটা, গাছে মোট কতগুলো পাখির বাসা রয়েছে সেই হিসেবেই গণনা করা হচ্ছে। গড়ে প্রতিটি বাসাতে তিনটি করে পাখি হিসেবে গণনা করছি আমরা। গত বছর ১৪ হাজার পাখি ছিল। আমরা আশা করছি, এবার সেই সংখ্যাটা ১৬ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। পরিবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার পাখি গণনা করা হয়েছে।’
পাখি দেখতে প্রচুর পর্যটক আসেন আদিনা ফরেস্টে। পরিযায়ী পাখি ছাড়াও আদিনা বনাঞ্চলে বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের খাঁচাবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে। বিরাট এলাকা জুড়ে তৈরি খাঁচার মধ্যে রয়েছে রংবেরঙের বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। খাঁচার মধ্যে পাখিদের ওড়াউড়ি দেখে ভীষণ আনন্দ পায় শিশুরা। বড়রাও এর ব্যতিক্রম নয়। গাজোল থেকে এসেছিলেন লাবনী রাহুত। তিনি বললেন – প্রতিদিনের একঘেয়েমি জীবন থেকে মুক্তি পেতে আসি আদিনা ফরেস্টে। পাখিদের ঘর সংসার দেখে বেশ ভালই লাগে। এবারে প্রচুর পাখি এসেছে।
