বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: এক রাতের বৃষ্টিতে জলে ডুবল ময়নাগুড়ি (Mainaguri) শহর। মঙ্গলবার রাতের বৃষ্টিতে সতেরোটি ওয়ার্ডের হাতেগোনা দু-একটি বাদ দিলে বাকি পুরোটাই জলমগ্ন (Waterlogging)। অন্তত পাঁচশো বসতবাড়ি ও মাইলের পর মাইল রাস্তাঘাট জলের তলায়। জল নামার লক্ষণে তো নেই-ই, উলটে বাড়িতে জল ঢোকার সঙ্গে ভেসে আসছে সাপ, পোকামাকড় ও আবর্জনা। ঘরের মেঝেতে থিকথিক করছে কাদা। জলবন্দি হাজার হাজার মানুষের চোখে সারারাত ঘুম ছিল না। বুধবার বিকেলে কিছুটা জল নামলেও রাস্তাঘাট ও উঠোন এখনও হাঁটু থেকে কোমরজলে থইথই। রান্নাঘর ডুবে যাওয়ায় জোটেনি খাবার, কাজে বের হওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে বহু পরিবারের পক্ষে। এই বিপর্যয়ে তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ডের দিকে আঙুল তুলেছে বিজেপি। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দায় এড়ানোর সুর পুরসভার চেয়ারম্যান মনোজ রায়ের গলায়। তাঁর যুক্তি, ‘অস্বাভাবিক ও অতিমাত্রায় বৃষ্টির জেরেই এই সমস্যা হয়েছে। অধিকাংশ ওয়ার্ড জলমগ্ন এবং বহু ঘরে জল ঢুকেছে ঠিকই, তবে আমরা পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছি।’
শহরের কেন্দ্রস্থল ১২ নম্বর ওয়ার্ডের জাগৃতি মোড় যেন এক বিশালাকার ডোবা। স্থানীয় বাসিন্দা সুলোচনা আগরওয়ালের বয়ানে ফুটে উঠল সেই ভয়াবহ রাত, ‘মঙ্গলবার রাত বারোটার পর থেকেই হুহু করে ঘরে জল ঢুকতে থাকে। দরজা খুলে উঠোনের দিকে আলো ফেলতেই দেখি প্রায় কোমরজল। প্রবল স্রোতে জল ঢোকায় বিপদ বুঝে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাটের ওপর উঠে বসলাম।’ ওই এলাকারই সঞ্জয় আগরওয়ালের ক্ষোভ, ‘জলের সঙ্গে আবর্জনা, দুর্গন্ধ আর সাপ ভেসে আসছে। বিকেলেও পরিস্থিতি বদলায়নি। ঘরবাড়ি কাদায় ভর্তি।’ মিলপাড়ার ছবিটা আরও করুণ। থমকে গিয়েছে স্তব্ধ জনজীবন।
১০ নম্বর ওয়ার্ডের গৃহবন্দি লক্ষ্মী রায় বিশ্বাসের আক্ষেপ, ‘পরিবার নিয়ে বন্দি হয়ে আছি। খাওয়াদাওয়া জোটাই সমস্যা। বাইরে বেরোনোর উপায় নেই, উঠোনে কোমরজল।’ ওই ওয়ার্ডেরই সাধুশরণ গোয়ালা জানান, চারদিক জলমগ্ন হওয়ায় কাজে বেরোনো যায়নি। চালের গুদামে জল ঢুকে নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী, জলের পাম্প বিকল হওয়ায় পানীয় জলের সংকট শুরু হয়েছে। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্দিরা মোড়ের নমিতা মল্লিক বলেন, ‘প্রতি বছর এই একই যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। প্রশাসনের সর্বস্তরে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।’
এই বিপর্যয়ে পুরসভার নিকাশি ব্যবস্থার নগ্ন রূপ প্রকাশ পেতেই ক্ষোভে ফুটছে ময়নাগুড়ি। তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ডের দিকে আঙুল তুলে বিজেপির জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার সহকারী সভাপতি চঞ্চল সরকার তোপ দাগেন, ‘আসলে সমস্তটাই তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ডের চরম ব্যর্থতা। গোটা শহরে নিকাশিনালা বলতে কিছুই নেই, জল বেরোবে কোন দিক দিয়ে?’

