Mainaguri | অতীতের পাতায় ময়নাগুড়ির ঐতিহ্য, হারিয়েও অমলিন আমতলার শিঙাড়া

Mainaguri | অতীতের পাতায় ময়নাগুড়ির ঐতিহ্য, হারিয়েও অমলিন আমতলার শিঙাড়া

শিক্ষা
Spread the love


বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: সময়ের সঙ্গে কত কিছুই না পালটে যায়। একসময় ময়নাগুড়ি শহরের (Mainaguri) ট্রাফিক মোড় এলাকায় শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি বাসস্ট্যান্ডের কাছেই ছিল আমতলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। আম গাছের তলায় অবস্থিত ছিল বলেই দোকানের ওই নাম হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শহরের প্রবীণরা। ১৯৪৯ সালে বনমালী মিত্র এই দোকান শুরু করেন। তখন সব মিলিয়ে ময়নাগুড়িতে তিনটে মিষ্টির দোকান ছিল। প্রবীণরা জানিয়েছেন, এই দোকানের শিঙাড়া বিখ্যাত ছিল তার পেল্লাই সাইজের কারণে। সন্ধেবেলা চাটনি দিয়ে শিঙাড়া খেতে খেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই দোকানে আড্ডা চলত। এখন সেই আম গাছ নেই। বন্ধ হয়ে গিয়েছে আমতলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারও। কিন্তু প্রবীণদের হৃদয়ে এখনও আমতলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের আড্ডার স্মৃতি অমলিন।

স্মৃতিরোমন্থন করতে করতে ময়নাগুড়ি প্রবীণ নাগরিক সংস্থার সম্পাদক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী স্বপন দাস বলেন, ‘এখনও ওই এলাকার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে যায়। সেই সময় দু’টাকারও অনেক মূল্য ছিল। বাড়িতে অনেক বায়না করার পর কখনো-সখনো দু’টাকা পাওয়া যেত। আর দু’টাকা পেলেই সোজা ছুট লাগাতাম আমতলায়। শিঙাড়া খেতে হবে যে। এখনও সেই স্বাদ যেন মুখে লেগে আছে।’ কথা বলতে বলতে স্বপন একটু থামেন। তারপর বলেন, ‘এখন সবটাই অতীত। না আছে সেই আম গাছ। না আছে আমতলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের শিঙাড়া।’

১৯৯৮ সালে বনমালী মারা যান। বনমালীর মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর পরিবারের লোক পরবর্তীকালে এই দোকান বিক্রি করে দেন। এখন সেখানে গজিয়ে উঠেছে কংক্রিটের নির্মাণ। বনমালীর ছেলে রানা মিত্র বর্তমানে দুর্গাবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে ম্যাক্সি ট্যাক্সি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের টাইমকিপার। রানা বলেন, ‘জমজমাট দোকান ছিল। বাবাই দোকান চালাতেন। দোকানের শিঙাড়া, চাটনি, দই, মিষ্টি খুব জনপ্রিয় ছিল। বেশিরভাগ কারিগর ছিলেন দক্ষিণবঙ্গের। ছোটবেলায় দেখেছি সন্ধের পর দোকানে শিঙাড়া, চাটনি ও জমজমাট আড্ডার আসর বসত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরাই পরবর্তীকালে আর দোকানটা ধরে রাখতে পারলাম না। এখন সবই অতীত।’ তাঁর স্বরে আক্ষেপ ঝরে পড়ে।

আমতলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের কথা বলতে গিয়ে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রণব চৌধুরী বলেন, ‘সন্ধে হলেই ওই দোকানে শিঙাড়া খেতে যেতাম। সঙ্গে যে চাটনি দেওয়া হত, অপূর্ব ছিল তার স্বাদ। জমজমাট আড্ডা বসত ওই দোকানে।’

শহরের বেশ কিছু প্রবীণের কথায় আমতলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে শিঙাড়া খেতে গিয়ে ওই আম গাছের আম কুড়োনোর কথা উঠে আসে। এর পাশাপাশি উঠে আসে আক্ষেপও। তাঁরা জানান, শহরের এই ঐতিহ্যের কথা বর্তমান প্রজন্ম জানতেও পারল না।

তাঁদের আক্ষেপ যে সত্যি তা প্রমাণ হয় পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কলেজ পড়ুয়া বিকাশ দাসের কথায়। তিনি বলেন, ‘ওখান দিয়েই প্রতিদিন কলেজে যাই। ওখানে যে এত বিখ্যাত মিষ্টির দোকান ছিল, সেটা জানতাম না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *