উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: চোখেমুখে শান্ত ভাব থাকলেও কথা বললেই ফুটে উঠছে একরাশ আনন্দ। ২০২৬ সালের মাধ্যমিকের (Madhyamik Consequence 2026) মেধাতালিকায় ৬৯৫ নম্বর পেয়ে রাজ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের সৌর জানা। মেধা তালিকায় নিজের নাম শোনার পর লাজুক হাসি হেসে তার প্রতিক্রিয়া, ‘৯ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে তৃতীয় হয়েছি, আলাদাই ফিলিংস হচ্ছে!’ পশ্চিম মেদিনীপুরে বাড়ি তার।
নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র সৌরর ক্ষেত্রে একটি অদ্ভুত সমাপতন লক্ষ্য করা গেছে। স্কুলে সাধারণত প্রতিটি ক্লাসেই সে তৃতীয় হতো। এবার গোটা রাজ্যের নিরিখেও সেই ৩ সংখ্যাটিই তার সঙ্গী হলো। সৌরর কথায়, “সম্ভাবনা একটা ছিলই। পরীক্ষাও ভালো দিয়েছিলাম। তবে একেবারে রাজ্যের মধ্যে তৃতীয় হবো, এটা ভেবে খুব ভালো লাগছে।”
সৌর আর পাঁচটা সাধারণ পড়ুয়ার মতো সারাদিন বইয়ে মুখ গুঁজে পড়ে থাকার পক্ষপাতী নয়। তার সাফল্যের রসায়ন একেবারেই আলাদা। নিয়ম মেনে দিনে মেরেকেটে মাত্র সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পড়ত সে। সকালে ২ ঘণ্টা, সন্ধ্যায় ২ ঘণ্টা আর রাতে দেড় ঘণ্টা— মিশনের এই রুটিন মেনেই সে জয় করেছে মাধ্যমিকের পাহাড়। অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপের চেয়েও গুণগত পড়াশোনাতেই বেশি জোর দিয়েছে এই কৃতি।
সৌরর আদি বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের নগারচকে। তার বাবা সুভাষ জানা এবং মা অন্তরা বসু জানা— দুজনেই শিক্ষক। বাড়িতে শিক্ষার পরিবেশ থাকলেও বাবা-মায়ের মতো শিক্ষকতা নয়, সৌরর স্বপ্ন সে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। ছেলের এই সাফল্যে মা-বাবা দুজনেই গর্বিত। বাবা চান, ছেলে বড় হয়ে চিকিৎসাবিদ্যার এমন কোনো বিষয় নিয়ে গবেষণা করুক যা সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচাবে।
উল্লেখ্য, সৌরর সঙ্গেই এবার ৬৯৫ নম্বর পেয়ে যুগ্মভাবে তৃতীয় হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের অঙ্কনকুমার জানা এবং বাঁকুড়ার মৈনাক মণ্ডল।
