কোচবিহার: অসমের বৈষ্ণব ধর্মপ্রচারক শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের স্মৃতিবিজড়িত কোচবিহারের ঐতিহাসিক মধুপুর সত্ৰ পরিদর্শনে এলেন (Madhupur Satra Cooch Behar) অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন অসমের দুই মন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মালতি রাভা রায় সহ একাধিক বিধায়ক।
সম্প্রতি অসমের রাজ্য বাজেটে মধুপুর সত্ৰের উন্নয়নের জন্য ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক এই ধামকে কীভাবে আরও উন্নত করে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, তা খতিয়ে দেখতেই অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই কোচবিহার সফর। এদিন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেন যে, অসমের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারও মধুপুর সত্ৰধামের উন্নয়নে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, অসমের মহান ধর্মপ্রচারক শ্রীমন্ত শঙ্করদেব তাঁর জীবনের শেষ সময় মধুপুর ধামে কাটিয়েছিলেন এবং এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। তাঁকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক মধুপুর সত্ৰ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে থাকলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা অসম সরকারের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। সারা বছরই অসম এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ভক্ত ও পর্যটক এখানে আসেন। তবে মধুপুর ধামের পাশাপাশি হরিপুর ও বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় সত্ৰের যে জমিগুলি রয়েছে, তার একটি অংশ ইতিমধ্যেই দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই জমিগুলি উদ্ধারের পাশাপাশি মধুপুর সত্ৰ, হরিপুর ও বৈকুণ্ঠপুর এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্যই মূলত এই বরাদ্দ অর্থ ব্যবহার করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
এদিন অসমের মুখ্যমন্ত্রী জানান, শঙ্করদেবের জন্মভূমি অসমের নগাঁও জেলার বড়দোয়া সত্ৰকে যেভাবে পর্যটকদের কাছে আধুনিক ও আকর্ষক করে তোলা হয়েছে, মধুপুর সত্ৰকেও ঠিক সেই আদলেই একটি অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিষয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদের বড়দোয়া সত্ৰ পরিদর্শনের আমন্ত্রণও জানান। সেখানকার পর্যটন পরিকাঠামো ঘুরে দেখার পর মধুপুর ধামকে আরও সুন্দর করে সাজানোর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। স্থানীয় মানুষের আশা, এই ঐতিহাসিক স্থানের সার্বিক উন্নয়ন হলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে এবং তার হাত ধরেই মধুপুর ও সংলগ্ন এলাকার অর্থনৈতিক বিকাশও ত্বরান্বিত হবে।

