মাদারিহাট: গত কয়েকদিন ধরেই জঙ্গল লাগোয়া বিভিন্ন লোকালয়ে চলে আসছে হাতির পাল। তার মধ্যে বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় তো রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে হাতি। তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন আরও একজন। বারবার এমন ঘটনা ঘটতে থাকায় আতঙ্ক বাড়ছে জেলাজুড়েই। সতর্ক করছে বন দপ্তরও। খোদ বনকর্তারাই বলছেন সেকথা। নেপথ্যে সেই গত ৪ অক্টোবরের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বিস্তীর্ণ এলাকার ঘাস এখন পলিমাটির নীচে চাপা পড়েছে। ফলে তৃণভোজী প্রাণীদের জন্য বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্যাভাব। বনকর্তারা বলছেন, এই পলিমাটি ভেদ করে ঘাস জন্মাতে সময় লাগবে কম করে আরও তিন মাস। আর এই তিন মাস ধরে তাহলে জলদাপাড়ায় চলবে তৃণভোজী প্রাণীদের খাদ্যসংকট। ফলে দলে দলে লোকালয়ে চলে আসতে পারে বাইসন, গন্ডার, হরিণ আর হাতির দল। মানুষের সঙ্গে এইসব বন্যপ্রাণীর সংঘাত ভয়ংকর হতে পারে, এমনটাই প্রমাদ গুনছেন বনকর্তারা। এখন এই পরিস্থিতির মোকাবিলা কীভাবে করা যায়, সেই পথ খুঁজছেন বনকর্তারা।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বিভাগীয় বনাধিকারিক পারভিন কাশোয়ান জানালেন, দুর্যোগের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তোর্ষার ধারের বিস্তীর্ণ তৃণভূমি। আর সেখানেই সবচেয়ে বেশি বন্যপ্রাণীর বাস। কোথাও কোথাও ঘাস পলিমাটির স্তরের এক থেকে দুই ফুট নীচে চলে গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই ঘাস গজাতে কমপক্ষে তিন মাস লাগবে। ফলে এই তিন মাস আমাদের জন্য খুব ভয়ংকর সময়। খাবারের টান হতে পারে। বন্যপ্রাণীদের লোকালয়ে চলে আসার আশঙ্কা প্রবল। যদিও বনকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের প্রায় ৪০ শতাংশই তৃণভূমি। এই তৃণভূমির উপর নির্ভরশীল প্রায় ৩৫০টি গন্ডার, কয়েক হাজার বাইসন, হরিণ ও হাতি। এছাড়াও প্রায় ৮৫টি কুনকি হাতিও তো রয়েছে, যারা এই জাতীয় উদ্যানের উপর নির্ভরশীল। এবার আগামী এই তিন মাস এদের সকলের খাদ্যের কী ব্যবস্থা হবে, ভেবে চিন্তিত বনকর্তারা।
কুনকিদের জন্য অবশ্য বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়েছে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণ সংরক্ষক নবিকান্ত ঝা বলেন, ‘আমরা কুনকি হাতির জন্য কলা গাছ খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ বনের হাতির কী হবে?
