কিশনগঞ্জ: উত্তরবঙ্গের চা বলয় থেকে এবার কিশনগঞ্জের সীমান্তেও ছড়িয়ে পড়ছে চিতা বাঘের ত্রাস। সোমবার সন্ধ্যায় কিশনগঞ্জের ঠাকুরগঞ্জ ব্লকের ভরমডাঙ্গী চা বাগানে ফের দেখা মিলল একটি পূর্ণবয়স্ক চিতা বাঘের। উত্তরবঙ্গের খড়িবাড়ি সংলগ্ন এই এলাকায় বাঘের আনাগোনার খবরে শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দিনশেষে ঘরে ফেরার পথে ‘যম’ দর্শন
সোমবার সারাদিনের কাজ শেষে যখন চা শ্রমিকরা বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঝোপের আড়াল থেকে চিতা বাঘটিকে বেরিয়ে আসতে দেখেন তাঁরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাঘটি বেশ কিছুক্ষণ এলাকায় ঘোরাঘুরি করে বাগানের গভীরে ঢুকে পড়ে। যদিও বরাতজোরে এদিন কোনো শ্রমিকের ওপর হামলা চালায়নি চিতাবাঘটি। তবে গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ এই স্বস্তিকে দীর্ঘস্থায়ী হতে দিচ্ছে না।
এলাকায় ঘনীভূত পুরোনো আতঙ্ক
ঠাকুরগঞ্জ এলাকায় চিতা বাঘের আতঙ্ক নতুন নয়। মাত্র কয়েকদিন আগেই এই ব্লকেরই একটি আনারস বাগানে চিতা বাঘের আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিন শ্রমিক। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও লোকালয় সংলগ্ন বাগানে বাঘের উপস্থিতিতে গ্রামবাসী ও শ্রমিকরা কাজ করতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয়দের বক্তব্য, একই বাঘকে বারবার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে।
বনদপ্তর ও পুলিশের তৎপরতা
খবর পাওয়ার পরপরই ঠাকুরগঞ্জ থানার পুলিশ এবং বনকর্মীদের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বনদপ্তরের প্রাথমিক ধারণা, খড়িবাড়ি ও উত্তরবঙ্গের জঙ্গল লাগোয়া চা বাগানগুলো দিয়েই বাঘটি বিহারের এই সীমান্তে যাতায়াত করছে। বনকর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
• এলাকাটি নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে।
• গ্রামবাসীদের সন্ধ্যার পর একা বা দলছুট হয়ে বাগানে না ঘোরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
• প্রয়োজনে বাঘটিকে খাঁচাবন্দি করার পরিকল্পনাও নেওয়া হতে পারে।
আপাতত কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও, ভরমডাঙ্গী ও সংলগ্ন এলাকার মানুষের রাত কাটছে বাঘের ভয়ে সিঁটিয়ে। চিতা বাঘটি বাগানের ঠিক কোথায় লুকিয়ে আছে, তা খুঁজে বের করাই এখন বনদপ্তরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
