M K Stalin DMK | ডিলিমিটেশন বিলের আগেই বড়সড় ধস ইন্ডি জোটে! কংগ্রেসকে এড়িয়ে চলার নির্দেশ এম কে স্ট্যালিনের, সুবিধা পাচ্ছে এনডিএ?    

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ জাতীয় স্তরে বিরোধী ঐক্যে বড়সড় ফাটল! নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোটচুরি’-র অভিযোগে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও ‘এসআইআর’ (SIR) বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হলেও, কংগ্রেসের সঙ্গে একমঞ্চে আসতে সরাসরি অস্বীকার করলেন ডিএমকে (DMK) প্রধান তথা তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন (M K Stalin DMK)। দলীয় বৈঠকে শীর্ষ নেতাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলনকে সমর্থন জানানো হলেও, কোনো অবস্থাতেই কংগ্রেসের সঙ্গে একাসনে বসা বা মঞ্চ ভাগ করা যাবে না।

কংগ্রেস ও ডিএমকে-র এই দূরত্ব এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন চলতি মাসের শেষেই সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিতর্কিত ‘আসন পুনর্বিন্যাস বিল’ (Delimitation Invoice) ও ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করাতে মরিয়া প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রের শাসকদল এনডিএ।

সম্প্রতি চেন্নাইয়ে দলীয় নেতাদের এক জরুরি বৈঠকে ডেকেছিলেন তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। সূত্রের খবর, সেখানে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করার নির্দেশ দিলেও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। বৈঠকে স্ট্যালিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কংগ্রেস ব্যাকস্টেপ করে ডিএমকে-কে পিছন থেকে ছুরি মেরেছে। তাই ওদের সঙ্গে নতুন করে কোনো আলাপ-আলোচনা বা সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।”

প্রয়োজনে সিজেপি (CJP)-কে সঙ্গে নিয়ে আঞ্চলিক দলগুলিকে একছত্র করে জাতীয় রাজনীতিতে ‘তৃতীয় ফ্রন্ট’ (Third Entrance) গঠনের জল্পনাও উসকে দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় স্তরে কংগ্রেস-ডিএমকে সমীকরণের এই ভাঙন কেন্দ্রের মোদি সরকারের জন্য বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, চলতি মাসের শেষেই কেন্দ্র সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে চলেছে, যেখানে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করার ঐতিহাসিক ‘আসন পুনর্বিন্যাস বিল’ এবং ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’ নতুন করে পেশ করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে বিলটি পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। কিন্তু বর্তমানে ছবিটা অনেকটাই আলাদা।

কক্ষ মোট আসন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্য এনডিএ-র বর্তমান সম্ভাব্য শক্তি
লোকসভা ৫৪০ ৩৬০ ভোট ৩১৯ (তৃণমূল ও উদ্ধব শিবসেনা ভাঙনের পর) + ২২ (ডিএমকে) = ৩৪১+
রাজ্যসভা – ১৬৩ ভোট ১৫৫ (আপ ও তৃণমূল ভাঙনের পর)

তবে কি এনডিএ-কে সমর্থনের পথে ডিএমকে?

সংসদে যেকোনো সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন। এনডিএ সূত্র দাবি করছে, লোকসভায় ডিএমকে-র ২২ জন সাংসদ এবং শরদ পওয়ারের এনসিপি-র সমর্থন মিললে এনডিএ সহজেই ৩৪৯ পার করে যাবে, যা বিল পাসের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। ইতিমধ্যে ডিএমকে ও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দলের সঙ্গে মোদী সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের গোপন আলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর।

জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসকে এড়িয়ে স্ট্যালিনের এই কৌশল এবং সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ডিএমকে-র সম্ভাব্য অবস্থান কেন্দ্রকে এক বিশাল রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *