Longview tea employees protest | লংভিউয়ে বিজয় মিছিল, ১০০ দিনের রিলে অনশন, গান্ধির আদর্শে লড়াই শ্রমিকদের

Longview tea employees protest | লংভিউয়ে বিজয় মিছিল, ১০০ দিনের রিলে অনশন, গান্ধির আদর্শে লড়াই শ্রমিকদের

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


সোয়েব আজম, লংভিউ: ‘গাঁও ছোড়াব নহি, জঙ্গল ছোড়াব নহি।

মায় মাটি ছোড়াব নহি, লড়াই ছোড়াব নাহি।’

ভিটেমাটি ছাড়া যাদের আর হারানোর কিছু নেই, তাদের আছে শুধু জল, জঙ্গল আর জমিন। সঙ্গে আত্মসম্মান, আর মর্যাদা। সেটুকু সম্বল করেই প্রবল শক্তিশালী মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিলেন লংভিউ চা বাগানের শ্রমিকরা (Longview tea employees protest)। ১০০ দিনের রিলে অনশনের পর তাঁদের আংশিক জয় হয়েছে। সেই আনন্দে অনশন মঞ্চের সামনে তাঁরা মেতে উঠলেন নাচে-গানে-আনন্দে। রবিবার ছিল বিজয় মিছিল। ‘জয় শ্রমিক’-এর স্লোগানে মুখর যে মিছিল ঘুরেছে লংভিউ চা বাগানের (Longview Tea Backyard) তিনটি ডিভিশন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর পাওয়া জয়ের স্বাদ নিতে পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছিলেন শ্রমিকরা। তেমনই একজন বছর পঁয়তাল্লিশের গ্রেসি রাই। হিল প্ল্যান্টেশন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন, যাদের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছেন শ্রমিকরা, তাদের সূত্রেই আন্দোলনে যুক্ত গ্রেসি। তাঁর কথায়, ‘একে অপরের সাহস বাড়িয়েছি আমরা। লড়াই কঠিন ছিল, তবে কখনও মনে হয়নি হেরে যাব। ইতিহাস সাক্ষী যাঁরা লড়াই করবেন, জয় তাঁদেরই হবে।’

একশো দিনের বেশি আন্দোলন চালানো সহজ কথা নয়। অনশন করার পাশাপাশি ছিল প্রত্যেকের দৈনন্দিন কাজ। সেই সমস্ত কাজ সামলেই আন্দোলন জারি রেখেছেন শ্রমিকরা। কেউ ভোরে উঠে বাড়ির কাজ সামলে অনশন মঞ্চে এসেছেন। কেউ আবার সকালের কাজ মিটিয়ে রাতে মঞ্চে ভিড় বাড়িয়েছেন। ২১ বছরের সেজল রাই বিকম পড়ছেন সূর্য সেন কলেজে। মা-বাবা-ভাই-দিদি মিলিয়ে বাড়িতে পাঁচজন। পালা করে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। মিছিলের বাকি সদস্যদের আবিরে রাঙানোর মাঝে তাঁর মন্তব্য, ‘সবাই একে অপরের পরিস্থিতি বুঝে পাশে দাঁড়িয়েছি। ছাত্রছাত্রীরা সকালে পড়াশোনার পর রাতে অনশন মঞ্চে হাজির হয়েছি।’ সেজলের কথার রেশ ধরে সেমিকা লামা বললেন, ‘লংভিউ চা বাগানের যে সমস্ত শ্রমিক বাইরের বাগানে কাজ করতে যান, তাঁরাও রাতে এসে ভিড় বাড়িয়েছেন।’

তবে আন্দোলন সফল করার মূলে রয়েছে হিল প্ল্যান্টেশন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (এইচপিইইউ) দুই বছরেরও বেশি দীর্ঘ পরিশ্রম। ২০২৪ সালে তাঁরা লংভিউ চা বাগানে কাজ করা শুরু করেন। এরপর চলতে থাকে শ্রমিকদের সংগঠিত করা। এইচপিইইউ-এর সম্পাদক সুমেন্দ্র তামাংয়ের মন্তব্য, ‘১০ বছরেরও বেশি সময় মালিকপক্ষ পিএফ জমা করেনি। এর সঙ্গে রয়েছে দৈনিক মজুরি ও গ্র্যাচুইটি। এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়েছেন শ্রমিকরা।’

এদিকে, কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Excessive Court docket) নির্দেশে লংভিউ বাগানের শ্রমিকদের বকেয়া প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) টাকার একাংশ জমা দিয়েছে মালিকপক্ষ। শুক্রবার মালিকপক্ষের তরফে ২ কোটি টাকার একটি চেক জমা দেওয়া হয়েছে। তবে, বকেয়া ১২ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ২ কোটি জমা পড়ায় শ্রমিকরা মোটেও সন্তুষ্ট নন। যদিও তাঁরা মনে করছেন, এতে তাঁদের আংশিক জয় হয়েছে।

তবে শ্রমিকদের বর্তমান লড়াইয়ের সঙ্গে মিশে গিয়েছে পাহাড়ের আন্দোলনের ইতিহাস। অনশন মঞ্চ তৈরি হয়েছে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের শহিদ নিমা থিঙ্গ-এর স্মৃতি সৌধের সামনে। আন্দোলনকারীদের মতে, নিমাই গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের প্রথম শহিদ। এর সঙ্গে রয়েছেন ভগত সিং থেকে বিরসা মুন্ডা। সর্বোপরি যাঁর সত্যাগ্রহ ও অহিংসার নীতিতে আস্থা রাখলেন শ্রমিকরা, সেই মহাত্মা গান্ধির উপস্থিতিও ‘উজ্জ্বল’ অনশন মঞ্চে। খুন হওয়ার ৭৮ বছর পরও যিনি পথ দেখিয়ে যাচ্ছেন অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের লড়াইয়ে। তাঁর আদর্শকে পাথেয় করে গণতন্ত্রকে মজবুত করার কাজ নীরবে করে চলেছেন বাগান শ্রমিকরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *