নাগরাকাটা: একদিকে বক্সা জঙ্গলে বাঘ ছাড়ার ঐতিহাসিক ও সোনালি মুহূর্তের উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে ঠিক তার বিপরীত চিত্র ডুয়ার্সে। রবিবার সন্ধ্যায় ধরণিপুর মোড়ের কাছে ডায়না সড়ক সেতুর সামনে ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে দ্রুতগামী একটি গাড়ির ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী চিতাবাঘের (Leopard Dying)। ডুয়ার্সের জঙ্গল ঘেরা রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ির গতি যে বন্যপ্রাণীদের জন্য কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, এই ঘটনা ফের তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ডায়না রেঞ্জের বনকর্মীরা। মৃত চিতাবাঘটির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রেঞ্জ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। ডায়না রেঞ্জের রেঞ্জার সাম্য রায় জানিয়েছেন, বুনোটির শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
পরিবেশপ্রেমী ও বন দফতর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডুয়ার্স (Dooars) ও তরাইয়ের জঙ্গল চেরা জাতীয় সড়ক বা এশিয়ান হাইওয়েগুলিতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ফলে বন্যপ্রাণী মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। গত দেড় বছরে এই জাতীয় সড়কগুলিতে ২টি বাইসন, ২টি হরিণ এবং ২টি চিতাবাঘের প্রাণ গিয়েছে। এর বাইরে ছোট আকারের অজগর, সাপ, খরগোশ, ময়ূর বা বাদুড়ের মতো অসংখ্য প্রাণীর মৃত্যুর খবর প্রায়শই আড়ালেই থেকে যায়।
বিস্তীর্ণ জঙ্গলপথে গাড়ির নির্দিষ্ট গতিসীমা মেনে চলার নিয়ম থাকলেও, রাতের দিকে স্পিড মিটারের কাঁটা ঊর্ধ্বমুখী থাকে। হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশন (ন্যাফ)-এর মুখপাত্র অনিমেষ বসু এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কেবল সচেতনতার প্রচার চালিয়ে লাভ হচ্ছে না, এর জন্য কড়া আইনের শাসন ও জঙ্গলের রাস্তায় ধারাবাহিক পুলিশি নজরদারি জরুরি। এই নজরদারি বাড়লে যেমন বন্যপ্রাণী (Wildlife) রক্ষা পাবে, তেমনই সরকারের রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে বলে মত তাঁর।

