Kunal Ghosh Chorbagan Tragedy | “ফটোশুট ও মুখ বন্ধের রাজনীতি চলছে”; চোরবাগান বিপর্যয় নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ কুণাল ঘোষের   

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ কলকাতার চোরবাগান মণ্ডপে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের বিপর্যয় ও প্রাণহানির ঘটনায় রাজ্য সরকার এবং শাসক শিবিরের ভূমিকা নিয়ে চরম আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh Chorbagan Tragedy)। বিজয়া দশমীর দিনে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তিনি তোপ দাগেন যে, সরকার প্রকৃত ‘রাজধর্ম’ পালন না করে কেবল ফটোশুট এবং আর্থিক সাহায্য দিয়ে মুখ বন্ধ করার নোংরা রাজনীতি করছে। চোরবাগান পুজো কমিটির নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী মাথাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

চোরবাগান দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফে আর্থিক সাহায্য ও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, অতীতে এই ধরনের ঘটনায় যখন অন্য সরকার সাহায্য করত, তখন বিরোধীরা তাকে ‘মুখ বন্ধ করার চেষ্টা’ বলে কটাক্ষ করত। আজ বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও কি একই যুক্তি প্রযোজ্য নয়—এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আজ যেহেতু চোরবাগান কমিটিতে পুরো বিজেপির মাথারা ভর্তি, সেই কারণে আজকে আপনাকে ছুটে ছুটে গিয়ে মুখ বন্ধ করাতে হচ্ছে কি না, এই প্রশ্ন তো সাধারণ মানুষের মধ্যে আসবে।” তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর বা সহায়তার বিরোধিতায় তিনি বা দল নেই, কিন্তু এর আড়ালে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাঁর।

বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়ে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ন্যায্য বিচার যদি দিতে হয়, তাহলে আগে অ্যারেস্ট করুন কমিটি এবং পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের।” শুধুমাত্র হোমগার্ড, সিভিক ভলিউটিয়ার বা প্রাইভেট সিকিউরিটির মতো গরিব ও নিম্নপদস্থ কর্মীদের বলির পাঁঠা না বানিয়ে, যারা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন, সেই সমস্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দখলদারির রাজনীতির জেরে অনভিজ্ঞ ও বেপরোয়া ব্যক্তিদের হাতে পুজো পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার ফলেই এই মৃত্যুর মিছিল দেখতে হয়েছে এবং এর মাধ্যমে সারা বিশ্বের কাছে বাংলার দুর্গাপুজোকে কলঙ্কিত করা হয়েছে।

এদিন কটাক্ষের সুরে কুণাল বলেন, চোরবাগানকাণ্ডে হতাহতদের সঠিক সংখ্যা ও পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। নামমাত্র ক্ষতিপূরণ ও ফটোশুটের রাজনীতি বন্ধ করে সরকার যদি প্রকৃত ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তৃণমূল কংগ্রেস সর্বশক্তি দিয়ে এর প্রতিবাদ জারি রাখবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শুভেন্দু সরকারকে কটাক্ষ করে কুণাল বলেন, “এখন তো আপনাদের ন্যায়বিচারের পদ্ধতি আলাদা। আরজি করের নির্যাতিতার বিচার চাইতে গিয়ে দেখা গেল তাঁর মা এমএলএ হলেন। ন্যায়বিচার হয়ে গেল। চন্দ্রনাথ রথ— কে কেন কীভাবে খুন? বিচারের নামে তাঁর মা এমএলএ হয়ে গেলেন।” কুণালের আশঙ্কা, চোরবাগানে যে ভয়ংকর দুর্ঘটনা এবং গাফিলতির কারণে মৃত্যু হয়েছে— সে ক্ষেত্রে বিজেপির কোনও নেতা না বলে বসেন, এই পরিবারগুলো থেকে একজন করে পুরসভায় প্রার্থী করে দিচ্ছে, আর সেটাই ন্যায়বিচার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *