নিরিবিলি সময় কাটাতে ভালোবাসেন! দেখতে চান পৃথিবীর প্রাচীনতম প্রাণীদের অন্যতম স্যালামান্ডার! অথবা বিশ্বের সেরা চা উৎপাদন হয় যেখানে সেই চা বাগান! তবে অবশ্যই গন্তব্য হোক কার্শিয়াং পাহাড়ের জঙ্গল ও চা বাগান ঘেরা দিলারাম গ্রাম। এই পাহাড়ি উপত্যকায় হাতের কাছে মেঘ পেয়ে ঠিক মনে পড়বে কবি জয় গোস্বামীর ‘মেঘ বালিকার জন্য রূপকথার জগত’। চোখের পলক পড়তে কখন শরীর ভিজিয়ে উড়ে যায় পেজা তুলোর মতো মেঘ! হাওয়ায় ভেসে জলকণা চুলের ডগায় আটকে মূক্তোর মতো ঝলমল করে দোল খায় ঠিক নেই। কিন্তু কীভাবে পৌঁছাবেন সেখানে?
কার্শিয়াং পাহাড়ের কোলে দিলারাম একটি ছোট্ট গ্রাম। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। কার্শিয়াং থেকে ৮ কিলোমিটার। শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে দিলারামের নিরিবিলি পরিবেশে আপনি পেয়ে যাবেন রকমারি পাখি দেখার সুযোগ। ইচ্ছে হলে লেকের জলে ছিপ ফেলে মাছ ধরতে পারবেন। চা বাগানের সবুজ গালিচার পেট চিরে যাওয়া আঁকাবাকা পথে পা রেখে গ্রামে ঘুরে বেড়ানোর সময় মনপ্রাণ জুড়িয়ে যাবে। দিলারামে রয়েছে প্রাচীন শিবের মন্দির। বৌদ্ধ সন্ত গুরু রিম্পোচের পাথর খোদাই করা মূর্তি।দিলারাম থেকে দশ কিলোমিটার দূরে পেয়ে যাবেন ভানজাং সালামান্ডার হ্রদ। এখানে দেখা মিলবে হিমালয় সালামান্ডারের।

আরও পড়ুন:
অবশ্যই ঘুরে দেখে নেবেন মার্গারেট’স হোপ টি এস্টেট। এখানেই বিশ্বের সেরা চা উৎপাদন হয়ে থাকে। দিলারামে থেকে ঘুরে নিতে পারেন চটকপুর ভিউপয়েন্টে ম্যাগনোলিয়া, বাদাম এবং এলাচ বাগান। এখানে ট্রেকিংয়ের সাধ পূরণের সুযোগ পাবেন। এখান থেকে সহজেই ঘুরে নেওয়া যায় মিরিক, রংবাং অথবা দার্জিলিং শহর। ভাড়া গাড়িতে পৌঁছে যেতে পারবেন সেখানে। ভাড়া সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। দিলারাম থেকে ছোট গাড়ি ভাড়া করতে পারেন। দার্জিলিং থেকে দিলারাম পর্যন্ত লোকাল ট্যাক্সি চলে। এখানে রাস্তার পাশে ‘পথে সাথী’ পেয়ে যাবে সেখানেও থাকতে পারেন। অথবা গ্রামের ভিতরে বেশ কয়েকটি সস্তা অথচ আরামদায়ক হোমস্টে রয়েছে। মাথাপিছু ভাড়া দেড় হাজার টাকার মধ্যে। হোমস্টেগুলিতে শিশুদের খেলার মাঠ, ব্যালকনিতে বসে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। শিলিগুড়ি, বাগডোগরা অথবা এনজেপি স্টেশনে নেমে গাড়ি ভাড়া করে দিলারাম গ্রামে পৌঁছে যাওয়া যায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
