উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল সংক্রান্ত হাই-ভোল্টেজ মামলার তদন্তে নতুন মোড়। আগামী রবিবার, ১৪ জুন, রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID) ফের তলব করেছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)। তবে তাঁর পাশাপাশি একই দিনে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও (Kunal Ghosh) তলব করেছে সিআইডি। তবে একই দিনে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই শীর্ষ নেতার হাজিরা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল।
সিআইডি-র তলব সূচি:
- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: রবিবার বেলা ১২টা।
- কুণাল ঘোষ: রবিবার বেলা আড়াইটে।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত চিঠিতে বিধায়কদের সই জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি ইতিমধ্যে একাধিকবার তৃণমূলের পার্টি অফিস ও অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের দপ্তরে তল্লাশি চালিয়েছে। কুণাল ঘোষের বাড়িতে গিয়েও এর আগে সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর বয়ান রেকর্ড করেছিলেন।
শুক্রবার রাতে কুণাল ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি নিজেই নোটিস গ্রহণ করেছেন এবং তদন্তে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সিআইডি-র এই তৎপরতা ও বারবার তলব নিয়ে শাসক শিবিরের অন্দরে তৈরি হয়েছে অস্বস্তি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই তলব কেবল আইনি প্রক্রিয়া নয়, এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কুণাল ঘোষের বয়ানের কোনো অমিল থাকে কি না, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে দলের অন্দরের অস্থিরতা এবং বিধায়কদের দলত্যাগের আবহে এই সই-কাণ্ড তৃণমূলের জন্য এক বড় আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবানী ভবনের গোয়েন্দা দপ্তরে রবিবারের এই জোড়া হাজিরা কি কোনো বড় সংকেত বহন করছে? না কি এটি স্রেফ তদন্তের রুটিন প্রক্রিয়া—তার উত্তর মিলবে রবিবারের দিনটিতেই।
