উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের ৮০তম বর্ষ উদযাপনে (Independence Day 2026) বাংলার রাজনীতিতে এক চাঞ্চল্যকর মুহূর্তের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। শনিবার ১৫ অগাস্ট একইদিনে তৃণমূলের দুটি ভিন্ন শিবিরে উপস্থিত থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। প্রথমে তপসিয়ায় পুরোনো তৃণমূল ভবনে দলীয় পতাকা তোলার পর, সরাসরি মেট্রোপলিটন এলাকায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবিরেও পৌঁছে যান বেলেঘাটার এই বিধায়ক। আর এই দ্বৈত উপস্থিতি ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। তবে কি দলবদলের পথে হাঁটছেন কুণাল? সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন তিনি।
এদিন সকালে তপসিয়ায় কালীঘাট শিবিরের অনুষ্ঠানে দোলা সেন ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কুণাল। এরপর সেখান থেকে ফেরার পথে মেট্রোপলিটনে ঋতব্রত শিবিরের অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর যে নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) শিবির ছেড়ে ঋতব্রতের নেতৃত্বে আলাদা অবস্থান নিয়েছেন, সেই শিবিরে কুণালের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ রায়দের উপস্থিতিতে সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও রাখেন কুণাল। ঋতব্রত শিবিরের মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদার দাবি করেন, কুণালবাবু তাঁদের অফিসে এসে কলিং বেল বাজিয়ে গিয়েছেন, কিছুদিনের মধ্যেই লাগেজ নিয়ে চলে আসবেন।
তবে এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, যে রাস্তা দিয়ে তিনি যাতায়াত করেন, সেখানে দলের নাম করে পতাকা তুলতে দেখে তিনি কৌতূহলবশত গাড়ি থেকে নেমেছিলেন, কারণ ওই এলাকা তাঁরই বিধানসভা। দলবদলের তত্ত্ব উড়িয়ে কুণাল হুংকার দিয়ে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বুকে নিয়ে তিনি চলেন। এমনকি ওই শিবিরে দাঁড়িয়েই বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের তীব্র সমালোচনা করে তাঁর গ্রেপ্তারি ও সাংসদপদ খারিজের দাবি জানান কুণাল। নেতাজিকে অপমানের প্রতিবাদে বিজেপিকে একহাত নেন তিনি। অন্যদিকে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অবশ্য পুরো বিষয়টিকে স্রেফ সৌজন্য বলে এড়িয়ে গিয়েছেন। সব মিলিয়ে, স্বাধীনতা দিবসের দিনে কুণালের এই দুর্ধর্ষ রাজনৈতিক চাল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।

