কুমারগঞ্জ: ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই যেন বদলে গিয়েছে সীমান্ত গ্রামের চিত্র। যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেত শিশুরা, মাঠে যেতেন কৃষকরা, বাজারে পৌঁছতেন গৃহস্থরা— সেই পথেই এবার নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল! অভিযোগ, বিএসএফ (BSF)-এর কড়াকড়িতে গত প্রায় দুই সপ্তাহের উপর কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) জেলার কুমারগঞ্জ (Kumarganj) ব্লকের এনাতুল্লাপুর মঞ্জুরিচক তথা মণ্ডলপাড়া গ্রামের প্রায় ৩০টি ভারতীয় পরিবার।
স্থানীয়দের দাবি, স্বাধীনতার বহু আগে থেকেই তাঁদের পূর্বপুরুষেরা ওই এলাকায় বসবাস করছেন। কাঁটাতারের ওপারে রয়েছে চাষের জমি, আর এপারে বসতভিটে। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের পাশ দিয়ে সুরক্ষা বাহিনীর তৈরি সেই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করতেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু অভিযোগ, ভোটের ফল ঘোষণার পর আচমকাই সেই রাস্তায় কড়াকড়ি শুরু করে বিএসএফ। যার ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা। অভিযোগ, রাস্তায় লোহার পোল ফেলে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে বিএসএফ। এদিকে এই রাস্তাটিই মন্ডল পাড়ার একমাত্র রাস্তা, যা দিয়ে মূল রাস্তায় ওঠা যায়। বর্তমানে এই বৃষ্টি বাদলের দিনে জলে পূর্ণ মাঠ পার করেই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, শিশুদের স্কুলে যাওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কৃষিকাজও ব্যাহত হচ্ছে। বাজার, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজকর্মে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সকলকে। বাধ্য হয়ে অনেকেই মাঠের মধ্যে হাঁটু জল পেরিয়ে যাতায়াত করছেন।
খবর পেয়ে বুধবার এলাকায় পৌঁছন কুমারগঞ্জের বিডিও শুভঙ্কর সাহা। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দা দীপন দাস ও সুমন দাসদের অভিযোগ, ‘আমরা এদেশের নাগরিক হয়েও নিজেদের বন্দি মনে করছি। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চাষের জমিতে পৌঁছতে না পারায় সংসার চালানোই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএসএফের কাছে বারবার অনুরোধ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। মাঠের জল ভেঙে আমাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে!’ গ্রামবাসীদের আরও দাবি, ভোটের আগে ওই রাস্তায় কোনও সমস্যা ছিল না। ফল ঘোষণার পর থেকেই আচমকা কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। আর তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
এই আবহে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকা পরিদর্শন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাও বলেন আধিকারিকরা। এই প্রসঙ্গে জাখিরপুর পঞ্চায়েতের প্রধান রুকসানা বিবি বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
কুমারগঞ্জের বিডিও শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি লিখিত আকারে জানিয়েছি। সমাধানসূত্র না বেরোলে বিকল্প রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হবে।’ যদিও এ বিষয়ে বিএসএফের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
