কুলটি: তীব্র দাবদাহের মাঝেই আসানসোলের কুলটি থানা এলাকায় এক বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান চালাল রেল কর্তৃপক্ষ (Kulti Railway Eviction)। মঙ্গলবার সকালে কুলটি থানার অন্তর্গত বরাকর বালতোড়িয়া গণেশ মেলা ময়দান সংলগ্ন রেলের জমিতে থাকা একটি বিস্তীর্ণ বস্তি এলাকায় আচমকাই বুলডোজার চালানো হয়। রেলের এই আকস্মিক ও মারমুখী অভিযানে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শতাধিক মাটির ও ইটের বাড়ি। ফলে এই প্রখর গরমে এক লহমায় খোলা আকাশের নিচে এসে দাঁড়িয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ঘটনার জেরে গোটা বরাকর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
উচ্ছেদ হওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। রেল কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ তুলে তাঁরা বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এই এলাকায় বাস করছি। এখানেই আমাদের জন্ম, আমাদের আগের প্রজন্ম এই জায়গাতেই মারা গেছেন। শতাধিক পাকা ও মাটির বাড়িতে আমরা হাজার হাজার মানুষ এখানে থাকতাম। অথচ মাত্র একদিন আগে রেলকর্মীরা এসে আমাদের জায়গা খালি করার কথা বলল, আর আজ সকালেই বুলডোজার নিয়ে এসে আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দিল!”
কান্নায় ভেঙে পড়ে বাসিন্দারা আরও বলেন, “এই প্রখর গরমে আমরা আমাদের ছোট ছোট শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ রোগীদের নিয়ে এখন কোথায় যাব? নির্বাচনের সময় বড় বড় রাজনীতিবিদরা আমাদের ভোট চাইতে এই বস্তিতে আসতেন। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং বরাকরে এসেছিলেন। আমাদের ভোট নিয়ে ওনারা সরকার গড়লেন, আর আজ আমরা নিজেদের দেশেই ভিখারি ও গৃহহীন হয়ে পড়লাম! আমাদের কোনও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা পর্যন্ত করা হলো না।”
রেলের বুলডোজার চালানোর খবর পেয়েই বরাকরের ওই বস্তি এলাকায় ছুটে আসেন কুলটি বিধানসভার কংগ্রেস নেতা রবি যাদব। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে রেল ও বর্তমান শাসক দলের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অমানবিক। যে সাধারণ মানুষের ভোট নিয়ে সরকার তৈরি হলো, আজ তাদের জীবন নিয়ে খেলা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত শাসক দলের কোনও বড় নেতা এই অসহায় মানুষগুলোর ভালোমন্দ জানতে বা পাশে দাঁড়াতে আসেননি। এখানে ৪০০-র বেশি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের ওপর সরাসরি বুলডোজার চালানো হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে আক্রান্তদের বিকল্প আবাসন, যথাযথ পুনর্বাসন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”
এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়ালেও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন রয়েছে রেল পুলিশ (RPF) ও স্থানীয় থানার পুলিশ বাহিনী। উচ্ছেদ নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আকাশছোঁয়া হলেও রেল কর্তৃপক্ষের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, রেলের নিজস্ব জমি উদ্ধার করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং যা কিছু করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ আইন মেনেই করা হয়েছে।
