উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আগামী ১ জুলাই ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতির ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন হতে চলেছে। কেন্দ্র সরকার সারা দেশে কার্যকর করতে চলেছে ‘বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’, যা সংক্ষেপে ‘জিরামজি’ (VBG RAMJI Scheme) নামে পরিচিত। সোমবার গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের (Rural Improvement Ministry) পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, এখন থেকে গ্রামীণ ভারতের শ্রমিকরা আর বছরে ১০০ দিনের কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং তাঁদের জন্য ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat 2047) গড়ে তোলার যে মহাপরিকল্পনা মোদি সরকার (Modi Authorities) গ্রহণ করেছে, সেই লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই নতুন প্রকল্পের পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে লোকসভা এবং রাজ্যসভায় এই সংক্রান্ত বিলটি পাস হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির সিলমোহর পড়ার পর তা আইনে পরিণত হয়। সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পের জন্য ৯৫ হাজার ৬৯২ কোটি টাকার এক বিশাল অংকের বাজেট বরাদ্দের ঘোষণা করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো ২০৪৭ সালের মধ্যে গ্রামীণ অর্থনীতির ভোল বদলে দেওয়া।
এতদিন গ্রামীণ ভারতে কর্মসংস্থানের প্রধান স্তম্ভ ছিল ২০০৫ সালে প্রণীত ‘মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট’ বা মনরেগা। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মনরেগার পরিবর্তে এখন থেকে ‘ভিবি জি রামজি’ আইন বলবৎ হবে। এই নতুন আইনের অধীনে ভারতের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শ্রমিকরা কাজ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আইনের শর্তাবলি আরও কঠোর এবং শ্রমিক-বান্ধব করা হয়েছে। বিশেষত, নতুন নিয়মে বলা হয়েছে যে, কোনো শ্রমিক কাজের জন্য আবেদন করার ১৫ দিনের মধ্যে যদি কাজ না পান, তবে সরকার তাঁকে নির্দিষ্ট হারে বেকার ভাতা দিতে বাধ্য থাকবে। এর ফলে গ্রামীণ শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও আয়ের নিশ্চয়তা অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ১ জুলাই থেকে এই আইন আনুষ্ঠানিকভাবে লাগু হওয়ার আগে পর্যন্ত সারা দেশে যে সমস্ত গ্রামীণ রোজগার প্রকল্পের কাজ চলছিল, সেগুলিকেও নতুন আইনের অধীনস্থ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়া হবে। কেন্দ্র স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো কাজই অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হবে না। এছাড়া পুরনো ভেরিফায়েড শ্রম কার্ডগুলো নতুন কার্ড ইস্যু না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ বৈধ থাকবে।
তবে এই নতুন প্রকল্পের রাজনৈতিক বিতর্কও পিছু ছাড়েনি। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও সাংসদ জয়রাম রমেশ কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই বিজ্ঞপ্তির মধ্যে নতুন বা গঠনমূলক কিছুই নেই। এটি সরকারের একটি প্রচারসর্বস্ব নাম কেনার প্রচেষ্টা মাত্র। বিরোধীদের দাবি, এই ধরনের বৃহৎ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন ছিল, যা কেন্দ্র এড়িয়ে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও, কেন্দ্র সরকার তাদের অবস্থানে অনড় এবং ১ জুলাই থেকেই দেশজুড়ে এই নতুন ব্যবস্থার সূচনা হতে চলেছে। বরাদ্দকৃত বিপুল অর্থ এবং কাজের দিনের বৃদ্ধি গ্রামীণ ভারতের দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। মোদি সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা বিকশিত ভারত নির্মাণের পথকে প্রশস্ত করবে।
