জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা: চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দিচ্ছেন কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী (Krishnendu Narayan Choudhury), নিশ্চিত। পরবর্তী পুর নির্বাচনে যে তিনি প্রার্থী হবেন, তাও একপ্রকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বুধবার জেলা শাসকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার আগে পুর আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও জানিয়েছেন পাঁচবারের চেয়ারম্যান। কিন্তু পদত্যাগ করার পর কোন দলে নাম লেখাবেন তিনি, এই প্রশ্নই এখন মালদায়। কৃষ্ণেন্দুর হেঁয়ালি, যেমন বৃষ্টি হবে, তেমন ছাতা ধরবেন।
যথারীতি মঙ্গলবার পুরভবনে পা রেখেছেন কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ। একের পর এক পুরনথিতে সই করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তাঁর কার্যালয়ে ছিলেন অনুরাগী কয়েকজন কাউন্সিলার। কাজের ফাঁকেই তিনি বললেন, ‘জেলা শাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি সময় জানাবেন, সেই মোতাবেক পদত্যাগপত্র নিয়ে আগামীকাল দেখা করব।’ ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রশ্নে তাঁর জবাব, ‘রাজনীতি আমার রক্তে রয়েছে। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত রাজনীতি করব। আপাতত আমার নিজস্ব এনজিওর মাধ্যমে মানুষের সেবামূলক কাজ চালিয়ে যাব।’ ছ’মাস পর পুর নির্বাচন হওয়ার কথা। ভোটে দাঁড়াবেন কি না প্রশ্ন করতেই তাঁর সাফ কথা, ‘নিজের ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াব। তবে তৃণমূলের প্রতীকে আর নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি শ্রদ্ধা করি, কিন্তু উনি বললেও তৃণমূলে আমি আর নেই।’ তবে কি কংগ্রেস না বিজেপি? সরাসরি উত্তর না দিয়ে কৃষ্ণেন্দু বলছেন, ‘কংগ্রেস মালদা জেলায় প্রাসঙ্গিক। কংগ্রেসকে উপেক্ষা করা যায় না। আবার নিজের দাদু আশুতোষ চৌধুরী মালদায় হিন্দু মহাসভার সম্পাদক ছিলেন।’
ছয়বারের কাউন্সিলার এবং এর মধ্যে পাঁচবার চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি। এখন পর্যন্ত কয়েকটি কাজ করতে না পারলেও সাফল্যের খতিয়ান দীর্ঘ বলে তাঁর দাবি। তিনি বলছেন, ‘শহরের জলনিকাশি ব্যবস্থার সমাধান করতে পেরেছি। এই শহরের মানুষকে আর বৃষ্টির জলে ডুবতে হবে না। ইতিমধ্যেই বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে পুরসভার ভাগাড়ে। পুরনিগমকে বাইরে রাখলে রাজ্যে একমাত্র পুরসভা ইংরেজবাজার, যার নিজস্ব আয় বছরে ৩৩ কোটি টাকা।’ মালদা (Malda) শহরের এলাকা ১৩.২৫ বর্গকিলোমিটার। প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করেন। তাই শহরের সম্প্রসারণ প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে তিনি এক দশক ধরে রাজ্য সরকারের কাছে দরবার করছেন বলে দাবি তাঁর। তাঁর বক্তব্য, ‘পুরাতন মালদা আর মালদা শহর ও সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকাকে নিয়ে কর্পোরেশন তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’
কেন সরে যেতে হল চেয়ারম্যানের পদ থেকে? এই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে নিশানা করা কৃষ্ণেন্দুর অভিযোগ, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বকেয়ার পরিমাণ ১ কোটি ১৯ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা এবং রাজ্য সরকারের কাছে পাওনা ১৮ কোটি ৮০ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা। বাকি রয়েছে ২৫ লক্ষ হাউস হোল্ডিং কর। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। কীভাবে পুরসভা চলবে?’

