উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তিলোত্তমার (Kolkata) বুকেই ফের এক রহস্যমৃত্যুর ঘটনা। নিউটাউনের (New City) একটি বহুতল আবাসন থেকে উদ্ধার হল ২৫ বছর বয়সী এক তরুণী নেটপ্রভাবীর (Influencer) ঝুলন্ত দেহ। একই ফ্ল্যাট থেকে রক্তাক্ত এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর লিভ-ইন সঙ্গীকেও। রবিবার গভীর রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়া এলাকায়। খুন নাকি আত্মহত্যা, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও জটিল সমীকরণ? তদন্তে নেমেছে নিউটাউন থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত তরুণীর নাম তৃষা সাহা (২৫)। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির বাসিন্দা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। গত চার মাস ধরে তিনি সৌভিক রায় নামে এক যুবকের সঙ্গে চণ্ডীবেড়িয়ার ওই আবাসনে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকছিলেন।
রবিবার গভীর রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে তৃষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করার পাশাপাশি অন্য একটি ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সৌভিককে। তাঁর হাতের শিরা কাটা ছিল বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশের অনুমান, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন থেকেই এই চরম পরিণতি। তবে এটি খুন নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
- দেহে আঘাতের চিহ্ন: তৃষার শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।
- রক্তাক্ত পা ও রহস্য: পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, সৌভিকের হাতের শিরা কাটা ছিল। রক্তক্ষরণ হওয়া অবস্থায় সম্ভবত তিনি তৃষার ঝুলন্ত দেহটি জড়িয়ে ধরেছিলেন, যার ফলে মৃতার পায়েও রক্তের দাগ লেগে রয়েছে।
- তদন্তের অভিমুখ: পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে, তরুণীকে প্রথমে মারধর করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, এবং তারপর সৌভিক নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কি না।
এদিকে এই ঘটনায় স্তম্ভিত চণ্ডীবেড়িয়ার ওই আবাসনের বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ওই যুগল অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। স্থানীয় এক প্রৌঢ় জানান, ওদের ব্যবহার খুব ভালো ছিল। কখনও ওদের ঘর থেকে ঝগড়া বা অশান্তির আওয়াজ পাঅয়া যায়নি।
পুলিশ ইতিমধ্যেই তৃষার দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট এবং সৌভিকের বয়ান— এই দুইয়ের ওপর ভিত্তি করেই ঘটনার জট খুলবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

