হলদিবাড়ি: মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি বাপের বাড়ির লোকজন। তাই সামাজিক বিয়ের দু’দিন পরেই ছেলের বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে হলদিবাড়ি ব্লকের হেমকুমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন মাজাপাড়া গ্রামে। রাতের অন্ধকারে হামলা চালিয়ে বাড়ি, গাড়ি ভাঙচুর করা সহ পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গুরুতর জখম দুজন। ঘটনায় ভীতসন্ত্রস্ত এলাকার লোকজন।
খবর পেয়ে শনিবার রাতেই বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাতেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছয়জনকে আটক করে। পরে, রবিবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হলদিবাড়ি থানার আইসি কাশ্যপ রাই বলেন, ‘এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। এদিন ধৃত তিনজনকে মেখলিগঞ্জ মহকুমা আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।’
তবে ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পার্শ্ববর্তী গ্রাম ডাঙ্গাপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার আগেই গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে নিরীহদের ধরে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ।
ওই এলাকার এক তরুণের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুফানগঞ্জ ব্লকের এক তরুণীর প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাঁরা আগেই রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করে নিয়েছেন। গত ১৪ অগাস্ট ছেলের বাড়িতে সামাজিক মতে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। ছেলের পরিবারের অভিযোগ, মেয়ের বাড়ির লোকজন তাদের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি। তাই মেয়েকে ফিরে পেতে পার্শ্ববর্তী গ্রামের কিছু লোককে টাকার বিনিময়ে হাত করে তারা। শনিবার রাতে তারাই ধারালো অস্ত্র ও লাঠি হাতে এই হামলা চালায়। দুটি বাইক ও একটি স্কুটি ভেঙে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। সেই সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও সদ্যবিবাহিত বধূকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
একই অভিযোগ করেছেন ওই বধূও। আহত দুজন জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন। এদিকে, খবর পেয়ে ওই তরুণের বাড়িতে যান বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক দধিরাম রায়। এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। সেই সঙ্গে দফায় দফায় এলাকায় রুটমার্চ চালাচ্ছে পুলিশ।
