কাটিহার: কাটিহার রেল স্টেশন এলাকায় গোপন সূত্রে অভিযান চালিয়ে চারজন রোহিঙ্গাকে (Katihar RPF Arrests Rohingyas) গ্রেপ্তার করল রেল সুরক্ষা বাহিনী বা RPF। ধৃতদের মধ্যে তিনজন নাবালিকা রয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ১২৫০৫ নর্থ ইস্ট কামাখ্যা-আনন্দ বিহার এক্সপ্রেসে তল্লাশি চালিয়ে তাদের পাকড়াও করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে কোনো ধরনের বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা পাওয়া না গেলেও একটি মোবাইল ফোন, ২২০ ভারতীয় রুপি এবং ১০৯০ বাংলাদেশি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জেরায় ধৃতেরা কামাখ্যা থেকে ট্রেনে চেপে জম্মু যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে।
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত প্রধান অভিযুক্তের নাম মহম্মদ নূর আলম (২৪)। সে মিয়ানমারের মোগদা সিতা পাড়ার বাসিন্দা হলেও ছোটবেলায় অভিভাবকদের সঙ্গে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে জম্মুর রিফিউজি ক্যাম্পে থাকত। কিন্তু ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার সেই রিফিউজি কার্ড বাতিল হয়ে যায়। এর পরই সে বাংলাদেশি এজেন্ট মহম্মদ ইয়াসমিনের সঙ্গে যোগসাজশ করে ভারতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অবৈধ কারবারে জড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই তিন নাবালিকাকে কামাখ্যা থেকে জম্মু পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি নিয়েছিল নূর আলম। ওই তিন নাবালিকা মূলক মিয়ানমারের ফরিয়াবাজারের বাসিন্দা হলেও এতদিন বাংলাদেশের কক্সবাজারের কুতুপালং রিফিউজি ক্যাম্পেই ছিল। সেখান থেকে দালাল বা এজেন্টের সাহায্যে সীমান্ত পার হয়ে তারা জেনারেল টিকিট কেটে দিল্লি হয়ে জম্মুর দিকে যাচ্ছিল। ভারতে প্রবেশ বা অবস্থানের পক্ষে কোনো সন্তোষজনক কারণ বা বৈধ নথিপত্র তারা দেখাতে পারেনি।
রবিবার রাতেই কাটিহার আরপিএফ ধৃতদের কাটিহার জিআরপি (GRP)-র হাতে তুলে দেয় এবং নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়। কেন এবং কী উদ্দেশ্যে তারা ভারতে প্রবেশ করেছিল, তা জানতে পুলিশ ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ম্যারাথন জেরা শুরু করেছে। সোমবার ধৃত রোহিঙ্গা যুবক নূর আলমকে কাটিহার রেল আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেপাজতে কাটিহার জেলে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া তিন নাবালিকাকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি বা CWC-র হেপাজতে সুরক্ষিত হোমে পাঠানো হয়েছে বলে রেল পুলিশ সূত্রে খবর মিলেছে।

